Aaj lndia Desk কলকাতা : নোয়াপাড়ার রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদল। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক ছিন্ন করলেন বিধায়ক সুনীল সিং(Sunil Singh)। সোমবার নিজেই সেই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে তিনি জানান, এবার তাঁর গন্তব্য বিজেপি। শুধু যোগদানই নয়, নোয়াপাড়ায় বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের সমর্থনে জোরদার প্রচারেও নামবেন তিনি।
সুনীল সিং (Sunil Singh)- এর কথায়, রাজনীতিতে এগোতে তাঁর কোনও দলীয় প্রতীকের প্রয়োজন হয় না। নিজের রাজনৈতিক যাত্রার কথাও তুলে ধরেন তিনি ১৯৯৫ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ে কাউন্সিলর হওয়া থেকে শুরু। এরপর টানা ২৫ বছর কাউন্সিলর, একবার বিধায়ক এবং তিনবার পুর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
নোয়াপাড়ার রাজনীতিতে সুনীল সিং(Sunil Singh) কে ঘিরে দলবদলের ইতিহাস নতুন কিছু নয়, বরং বারবারই বদলেছে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান। অর্জুন সিংয়ের ভগ্নিপতি সুনীল প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেসে থাকলেও ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবেই লড়াই করেন, তবে সেই নির্বাচনে তাঁকে পরাজিত করে জয়ী হন তৃণমূলের মঞ্জু বসু।
পরাজয়ের পর বেশিদিন বিজেপিতে থাকেননি সুনীল। ২০২২ সালেই ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। তবে বিধানসভা ভোট ঘনিয়ে আসতেই আবারও তাঁর দলবদল নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
এদিকে অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ, ২০২২ থেকে ২০২৬ এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তৃণমূল সুনীল সিং (Sunil Singh)কে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল। কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা কাজেই তাঁকে ব্যবহার করা হয়নি, এমনটাই দাবি তাঁর।
তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুনীল সিং স্পষ্ট ভাষাতেই ক্ষোভ উগরে দিলেন। তাঁর কথায়, দলের প্রতি আস্থা না থাকলে সেখানে থাকার কোনও মানে নেই। সোমবার তিনি জানিয়ে দেন, আর এক মুহূর্তও তৃণমূলে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
সুনীলের দাবি, ২০২২ সালে দলে ফেরার পর থেকে ২০২৬ পর্যন্ত তাঁকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল। কোনও কাজ বা দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর। এর পিছনে একমাত্র কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে আত্মীয়তার প্রসঙ্গ। যদিও তাঁর দাবি, সেই সম্পর্ক খুবই দূরত্বের, তবুও দল তাঁর প্রতি আস্থা দেখায়নি।
এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সুনীল বলেন, যেখানে বিশ্বাসের অভাব, সেখানে রাজনীতি করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় তাই তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
নোয়াপাড়ায় প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস এ বার ভরসা রেখেছে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের উপর। আর নির্বাচনী কমিটির কনভেনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সুনীল সিংকে। সেই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তবে কি আবারও দলবদলের পথে হাঁটছেন সুনীল?
এই প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন সুনীল সিং। তাঁর কথায়, ইলেকশন কমিটিতে রাখা সম্পূর্ণভাবে দলের সিদ্ধান্ত। তাঁকে নোয়াপাড়া বিধানসভা এবং গারুলিয়া পুরসভার কনভেনার করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই দায়িত্ব নিতে তিনি রাজি হননি।
সুনীলের যুক্তি, ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত দলের কোনও কাউন্সিলরের সঙ্গে তাঁর কার্যত যোগাযোগই ছিল না। এই অবস্থায় হঠাৎ করে কনভেনারের দায়িত্ব নেওয়ার অর্থ কী সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝে শুধু পদ দেওয়ার মধ্যে কোনও অর্থ নেই।


