32 C
Kolkata
Sunday, March 29, 2026
spot_img

প্রার্থীর নাম উঠলেও উধাও ২০০ ভোটারের নাম ! সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে ফের গরমিল ?

Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগণা: ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিলো অসন্তোষ। একাধিক নাম ভোটার তালিকায় (Voter List) না থাকায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল মানুষের মনে। তবে এক এক করে প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় প্রার্থীর নাম উঠলেও শতাধিক বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ায় ফের নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভোটার তালিকা নিয়ে।

ভোটার তালিকায় প্রত্যাবর্তন

দেগঙ্গার কাউগাছি এলাকার বাসিন্দা অনিসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরেই ভোটার তালিকা (Voter List) সংশোধন প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন। পরিবারে ছয় ভাইবোন থাকার কারণে ২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে ‘পেন্ডিং’ তালিকায় যায়। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নথি যাচাইয়ের সুযোগ পেয়ে তিনি সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দেন। এর মধ্যেই দেগঙ্গা কেন্দ্র থেকে অনিসুর রহমানকে প্রার্থী ঘোষণা করে তৃনমূল কংগ্রেস। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম না থাকায় চাপ বাড়ছিল। অবশেষে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। অনিসুর বলেন, “সব নথি জমা দিয়েছিলাম। আত্মবিশ্বাস ছিল নাম উঠবে। তবু দুশ্চিন্তা ছিল। এখন সম্পূর্ণ স্বস্তিতে আছি।” এর মধ্যেই দেগঙ্গা কেন্দ্র থেকে অনিসুর রহমানকে প্রার্থী ঘোষণা করে তৃনমূল কংগ্রেস। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম না থাকায় চাপ বাড়ছিল। তবে দ্বিতীয় তালিকায় নাম ওঠায় সেই উদ্বেগ কেটে যায়।

২০০-র বেশি নাম বাদ

অন্যদিকে, গাইঘাটা বিধানসভার বেগুম ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭৮ নম্বর বুথে মোট ২০৬ জনের নাম তালিকায় (Voter List) ওঠেনি বলে অভিযোগ। এর ফলে বহু বাসিন্দা ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও নাম বাদ পড়েছে।

BLO-র বক্তব্যে বিস্ময়

সংশ্লিষ্ট বুথের BLO জানান, “অনেকেই বৈধ নথি জমা দিয়েছেন। তবু তাঁদের নাম বাদ পড়েছে, এটা আমাকেও অবাক করছে।” স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বুথে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৩৭০। যাচাই প্রক্রিয়ার পর তা কমে দাঁড়ায় ১০৫৫। চূড়ান্ত তালিকার পর ২০২ জন ‘আন্ডার ট্রায়াল’ অবস্থায় ছিলেন, যাঁদের নাম দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকাতেও ওঠেনি। স্থানীয় বাসিন্দা টোটন দাস বলেন, “আমরা ২০ বছর ধরে এখানে ভোট দিচ্ছি। সব নথি জমা দিয়েছি। তবু নাম বাদ পড়েছে কেন বুঝতে পারছি না।” এই ঘটনায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের অভিযোগ, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়া একটি ‘পরিকল্পিত’ পদক্ষেপ। প্রার্থীর নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় উঠলেও সাধারণ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগে প্রশ্ন উঠছে যাচাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে নথি যাচাইয়ের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হয়। ফলে কারও কাগজ সম্পূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হলে দ্রুত নাম অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে নথির অসঙ্গতি, তথ্যের গরমিল বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে আবেদন ঝুলে থাকছে বা বাতিল হচ্ছে। তবে সাধারণ ভোটারদের দাবি, একই ধরনের নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও ভিন্ন ফলাফল আসছে, যা পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি করছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন