Aaj India Desk, কলকাতা : নির্বাচনের সময় প্রচারে ভিড় নতুন কিছু নয়। স্থানীয় সমর্থক, কর্মী, এমনকি কৌতূহলী বাসিন্দারাও প্রায়ই যোগ দেন দলীয় কর্মসূচিতে। কিন্তু সেই ভিড়ের মধ্যেই যদি উঠে আসে এমন এক মুখ, যার নাম জড়িয়ে আছে গুরুতর অপরাধমূলক মামলায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে রাজনৈতিক প্রচারের পরিসর কতটা নিয়ন্ত্রিত, আর কতটা অবাধ?
কোন দলের হয়ে প্রচারে বাবুসোনা ?
কসবা বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল প্রার্থী জাভেদ খান-এর সাম্প্রতিক বাড়ি-বাড়ি প্রচারে এমনই এক বিতর্ক সামনে এসেছে। কাঁকুলিয়া কাণ্ডে নাম জড়ানো এবং অস্ত্র আইনে গ্রেফতার হওয়া ‘বাবুসোনা’ (Babusona)কে এই প্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যায়। শুধু উপস্থিতিই নয়, তাঁকে সামনের সারিতে থেকে ভোটের আবেদন জানাতেও দেখা গেছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, কাঁকুলিয়া ঘটনার পর যাঁরা অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছিলেন, তাঁদেরই এই প্রচারে বাবুসোনার (Babusona) সঙ্গে দেখা যাওয়ায় প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, এতে রাজনীতির সঙ্গে অপরাধের এবং অপরাধীদের সংযোগ আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
দলের বক্তব্য
তবে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর বৈশ্বনার চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “প্রচারের সময় এলাকাবাসী থাকতেই পারেন। কেউ বাড়িতে থাকলে তাঁকে তো সরিয়ে দেওয়া যায় না।” তিনি আরও বলেন, “প্রায় সব এলাকাতেই কারও না কারও বিরুদ্ধে মামলা থাকে। তার জন্য প্রচার থামানো সম্ভব নয়।”
এই যুক্তি নতুন নয়, কিন্তু বিতর্কও থামছে না। কারণ, প্রশ্নটা কেবল উপস্থিতি নিয়ে নয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি কতটা সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন, সেটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। নির্বাচনী আচরণবিধি সরাসরি এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করলেও, রাজনৈতিক দলটির নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
অপরাধজগতে তুখোড়
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের অক্টোবরে গড়িয়াহাটের কাঁকুলিয়া রোডে সুবীর চাকী ও তাঁর চালক রবিন মণ্ডলের খুনের ঘটনা রাজ্য জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছিল। সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সেই দ্বৈত খুন মামলায় ‘বাবুসোনা’র (Babusona) নাম উঠে আসে এবং পরে তাঁকে অস্ত্র আইনে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত। এছাড়াও অপরাধ জগতের অতি পরিচিত মুখ বাবুসোনা। এরকম একজন দাগী অপরাধীকে সাথে নিয়ে প্রচারে নামা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত ? তবে কি প্রকাশ্যে তার পক্ষ নিয়ে প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় দিচ্ছে তৃনমূল কংগ্রেস?
নির্বাচনের আবহে এই ঘটনা আবার সামনে আসায় অপরাধমূলক অতীত থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিতি কি কেবল ‘পাড়ার মানুষ’ হিসেবেই দেখা হবে, নাকি এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।


