Aaj India Desk , হুগলি : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্বাচনী প্রচারে (Campaign) ব্যস্ত সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিই। তবে বৃহস্পতিবার চারপাশের ভিড়, স্লোগান আর ক্যামেরার ভিড়ের মধ্যেই হুগলির তারকেশ্বরের বিজেপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে আচমকাই তৈরি হয় উত্তেজনা। এক মহিলা সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় সেখানে।
হুগলিতে বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন সাংবাদিক সন্তু পানের নির্বাচনী প্রচারের (Campaign) সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ওই মহিলা সাংবাদিক ভিডিও করছিলেন। সেই সময় সন্তু পানের কয়েকজন সমর্থক তাঁকে ও তাঁর সঙ্গী চিত্র সাংবাদিককে ঘিরে ধরেন। এরপরেই তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। ঘটনায় সাংবাদিক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলেও দাবি করা হয়। এই অভিযোগ নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছে।
ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে সন্তু পানের ভূমিকা নিয়ে। তিনি নিজে একসময় পেশায় সাংবাদিক ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে নিজ স্বার্থে সাংবাদিকতার নীতি – নৈতিকতা বিসর্জন দেন। এছাড়া সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা একজন জন প্রতিনিধির নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তা সত্ত্বেও ঘটনাকালে নীরব থেকে তিনি বিজেপি সমর্থকদের সেই উদ্ধত আচরণকে একপ্রকার সমর্থন জানিয়েছেন বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
একটি গণতান্ত্রিক দেশে এই ধরনের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কভারেজ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা আগেও বাধার মুখে পড়েছেন। কিন্তু এই ঘটনায় জননেতারই প্রচার (Campaign) অনুষ্ঠানে, তাঁরই সামনে একজন মহিলা সাংবাদিকের এভাবে হেনস্থা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দেয়।


