Aaj India, নয়া দিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি ঘিরে শুরু থেকেই শান্তির বার্তা দিয়ে এসেছে ভারত। এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান(Iran) ও আমেরিকা(United States) – দুই দেশকেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে হাঁটতে হবে। তবে এই সংঘাতে ভারত নিজে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নামবে না। তাঁর কথায়, ভারত কখনও পাকিস্তান-এর মতো ‘দালাল’ দেশের ভূমিকায় বিশ্বাস করে না।
দিল্লিতে আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধীদের তরফে প্রশ্ন উঠেছিল – ইরান-আমেরিকা সংঘাতে পাকিস্তান যদি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসে, তাহলে ভারতের অবস্থান কী? সেই প্রশ্নের জবাবেই কড়া ভাষায় পাকিস্তানের সমালোচনা করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, এ ধরনের তৃতীয় পক্ষের ভূমিকাকে ভারত গুরুত্ব দেয় না, বরং সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব বলে মনে করে।
প্রায় এক মাস ধরে চলা ইরান-আমেরিকা উত্তেজনায় এখনও পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি। কখনও ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর তরফে শর্ত দেওয়া হচ্ছে, আবার কখনও ইরানের পক্ষ থেকে কড়া অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের দেওয়া একাধিক শর্ত মানতে নারাজ তেহরান, তারা স্পষ্ট জানিয়েছে – কোনও চাপের কাছে মাথা নত করা হবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প(Donald Trump) তেহরানের সামনে একগুচ্ছ কঠোর শর্ত রেখেছেন – সংখ্যায় প্রায় ১৫টি। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই শর্ত মানার প্রশ্নই ওঠে না, কোনও চাপের মুখে মাথা নত করবে না তারা। অন্যদিকে, পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছেই। একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনাও হয়েছে। যদিও সেই দাবি সরাসরি নস্যাৎ করেছে তেহরান।
এই টানাপোড়েনের মাঝেই নতুন করে সামনে এসেছে Pakistan-এর নাম। ইসলামাবাদের দাবি, তারা নাকি দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক মহলের একাংশে গুঞ্জন – আমেরিকা ও ইরানের যোগাযোগের সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করছে পাকিস্তান। এদিকে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা, ইসলামাবাদ নাকি দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের সেতু হিসেবে কাজ করছে। যদিও এই দাবি নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। পাকিস্তানের এই ভূমিকা নিয়েই সরব হয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী।
জয়শঙ্কর আরও মনে করিয়ে দেন, অতীতেও একাধিকবার এমন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় দেখা গেছে পাকিস্তানকে – ১৯৭১ সালে চিন ও আমেরিকার মধ্যে, এবং ১৯৮১ সালে আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময়। তবে তাঁর বক্তব্য পরিষ্কার – এই ধরনের কূটনৈতিক পথে ভারত হাঁটে না, ভারতের অগ্রাধিকার সরাসরি সংলাপ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা।


