Aaj India Desk, কলকাতা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণ (Sonarpur South) কেন্দ্রে রুপোলি পর্দার পরিচিত মুখেদের লড়াই ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ। বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্রর বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজন্যা হালদার এবং সিপিআই-এর পরমিতা দাশগুপ্ত, এই চার প্রার্থীর উপস্থিতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার শুধুমাত্র দলীয় নয়, বরং জনপ্রিয়তা, সংগঠন ও স্থানীয় সংযোগের পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
দুই ফুলের মুখোমুখি সংঘর্ষ
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণে (Sonarpur South) তৃণমূল প্রার্থী লাভলি মৈত্র উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হন। গত পাঁচ বছরে তিনি এলাকায় ধারাবাহিক জনসংযোগ ও সাংগঠনিক বৈঠকের মাধ্যমে নিজের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করেছেন। রাজপুর-হরিনাভি সহ একাধিক এলাকায় তাঁর সক্রিয়তা দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করেছে বলে দাবি তৃণমূলের।
তবে এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন পদ্ম শিবিরের প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। প্রার্থী ঘোষণা হতেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। প্রচারের প্রথম দিনেই রূপা বলেন, “আমি কাউকে হেভিওয়েট মনে করি না, আমার ওজনই একটু বেশি।” ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে তিনি আরও জানান, “সবাই মহিলা প্রার্থী, ব্যক্তিগত কোনও লড়াই নেই।”
স্বতন্ত্র ফ্যাক্টর রাজন্যা
এই সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রী রাজন্যা হালদার। দল ছেড়ে ‘জন সংগ্রাম মঞ্চ’ গঠন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি মাঠে নেমেছেন। ইতিমধ্যেই পোস্টার ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, “এখানে যারা প্রার্থী, কেউই প্রকৃত স্থানীয় নন। আমি সরাসরি মানুষের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত।”
অন্যদিকে, আলোচনার বাইরে থাকলেও সিপিআই প্রার্থী পরমিতা দাশগুপ্ত সংগঠনের জোরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ছোট সভা, মিছিল ও ঘরোয়া প্রচারের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্য, “এটা তারকার লড়াই নয়, জীবিকার লড়াই।”
ভোটের অঙ্কে বদলের ইঙ্গিত
গত নির্বাচনে তৃণমূল সোনারপুর দক্ষিণ (Sonarpur South) কেন্দ্রে ২৬,১৮১ ভোটে জয় পায়। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই ব্যবধান কমে প্রায় ৯,৭০০ ভোটে নেমে আসে, যা দক্ষিণ ২৪ পরগনার মধ্যে শাসকদলের অন্যতম কম লিড। ফলে এবারের লড়াইয়ে ভোটের ব্যবধান ও জনমতের পরিবর্তন বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কেন্দ্রে এবার প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, দলীয় সংগঠনের শক্তি এবং স্থানীয় ইস্যুতে সংযোগ তিনটি বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক পরিচিত মুখ থাকায় ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে, সোনারপুর দক্ষিণের লড়াই এবার শুধুমাত্র দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং রুপোলি পর্দার নায়িকাদের স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতার ওপরই নির্ভর করবে চূড়ান্ত ফলাফল।


