Aaj India, পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমানের আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার মাশুল! কাজ হারিয়ে চাপে আউশগ্রামের কলিতা মাজি। আসন্ন বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী (BJP Candidate) হয়েছেন তিনি। পেশায়, নিজের গ্রামেরই বিভিন্ন বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। প্রত্যন্ত গ্রামের এক সাধারণ মহিলাকে প্রার্থী করে এ বার চমক দিয়েছে গেরুয়া শিবির। তবে প্রার্থী ঘোষণার পরই তিনি কাজ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৬ মার্চ বিজেপির প্রথম প্রার্থী (BJP Candidate) তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই তালিকায় আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কলিতা মাজির নাম ঘোষণা করা হয়। পরের দিন সকালে প্রতিদিনের মতো ঘুম থেকে উঠে নিজের বাড়ির কাজ সেরে তিনি পরিচারিকার কাজ করতে যান এলাকারই ‘পাত্র’ পরিবারের বাড়িতে। কলিতার দাবি, সেখানে তাঁকে জানানো হয় – এখন আর কাজ করতে হবে না, তিনি যেহেতু প্রার্থী হয়েছেন, তাই প্রচারে মন দেওয়াই ভালো। এরপর অন্য একটি বাড়িতে কাজ করতে গেলেও সেখান থেকেও একই কথা শোনেন – কাজ নয়, বরং প্রচারেই মন দিতে বলা হয় তাঁকে।
হঠাৎ কাজ হারিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় পড়ে যান কলিতা মাজি। সংসার চলবে কীভাবে, তা নিয়েই দুশ্চিন্তা বাড়ে তাঁর। বিষয়টি তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানান। কলিতার কথায়, সেখান থেকেও তাঁকে একই কথা বলে আশ্বস্ত করা হয় – কোনও চিন্তা না করে প্রচারে মন দিতে বলা হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই আশ্বাসে কিছুটা মানসিক জোর পান তিনি। এরপরই নিজের এলাকায় দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারে নেমে পড়েন।
কলিতা মাজি জানান, এই প্রথম নয় – ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও তিনি একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তখনও প্রার্থী হওয়ার পর পরিচারিকার কাজ হারাতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপুকুর পাড় এলাকায় দুটি বাড়িতে কাজ করতেন তিনি। একটি বাড়ি থেকে মাসে ২০০০ টাকা এবং অন্য বাড়ি থেকে ২৫০০ টাকা পেতেন। স্বামীর অল্প উপার্জন এবং নিজের মোট সাড়ে চার হাজার টাকার আয়েই সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার খরচও বহন করতেন তিনি।
এইবার ওই কেন্দ্র থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার। তবে জয়ের বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী কলিতা মাজি। তাঁর বক্তব্য, এই বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী যিনিই হোন না কেন, তাতে কোনও প্রভাব পরবে না – আমি জিতবই।
উল্লেখ্য, SIR-এর পর বর্তমানে কলিতা মাজির নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছে। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে বিশেষ উদ্বিগ্ন নন তিনি। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের পরই ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।


