Aaj India, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের নির্বাচনী ইস্তাহার (TMC Election Manifesto) প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। ‘প্রতিজ্ঞা’ নামে প্রকাশিত এই ইস্তাহারে মোট ১০টি অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষা, শিল্প ও কর্মসংস্থানের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে দলের তরফ থেকে।
ইস্তাহারে (TMC Election Manifesto) আবাসন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে বেকার ভাতার মতো একাধিক সামাজিক প্রকল্পকে আরও জোরদার করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কিছু প্রকল্পের ঘোষণাও রয়েছে এই প্রতিজ্ঞাপত্রে।
স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘দুয়ারে সরকার’-এর পাশাপাশি ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ চালুর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতি বছর প্রতিটি ব্লক ও টাউনে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এছাড়াও তৃণমূলের এই দশ প্রতিজ্ঞার মধ্যে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে প্রকাশিত ইস্তাহারে (TMC Election Manifesto) একাধিক জনমুখী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee)। ‘দশ প্রতিজ্ঞা’-র মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে সামনে এনে ভোটের আগে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে শাসক দল।
এই প্রতিজ্ঞাগুলির মধ্যে রয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প, যুবসাথী, কৃষি উন্নয়ন, শিল্প ও বাণিজ্য, আবাসন, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধির মতো বিষয়। পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ প্রতিশ্রুতির কথাও আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে ইস্তাহারে। ‘লক্ষ্মীদের জয়, স্বনির্ভরতা অক্ষয়’-এই স্লোগানকেও সামনে রাখা হয়েছে।
বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে। ইস্তাহারে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের সুবিধা আজীবন পাবেন মহিলারা। আগে থেকেই ভাতা বৃদ্ধির যে ঘোষণা করা হয়েছিল, সেটিকেই পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে প্রতিজ্ঞাপত্রে।
সব মিলিয়ে, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভোটের আগে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার চেষ্টা করেছে তৃণমূল, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে ইস্তাহারে বিশেষ জোর দিয়েছে তৃণমূল। ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত যুবকদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, উপযুক্ত কাজ না পাওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
কৃষিক্ষেত্রেও বড়সড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে ইস্তাহারে (TMC Election Manifesto) । কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নে ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করেছে শাসক দল। ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ নামে এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর প্রতিটি ব্লক ও টাউনে স্বাস্থ্য পরিষেবা শিবির আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। এই ক্যাম্পগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইস্তাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাকে বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।পূর্ব ভারতের দরজা খুলে দিতে চায় বাংলা – শিল্প, বাণিজ্য আর পরিকাঠামোকে হাতিয়ার করে বড়সড় বার্তা দিল তৃণমূল। নির্বাচনের মুখে প্রকাশিত ইস্তাহারে উন্নয়নকেই মূল সুর করে একাধিক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে সামনে রেখে বাংলাকে ‘গেটওয়ে টু ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’ হিসেবে গড়ে তোলার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বমানের লজিস্টিকস হাব, আধুনিক বন্দর, বাণিজ্যিক পরিকাঠামো এবং গ্লোবাল ট্রেড সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা তুলে ধরে শিল্পায়নের গতি আরও বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, জঙ্গলসুন্দরী প্রকল্প ও রঘুনাথপুরের কর্মনগরীতে প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে। শালবনিতে জিন্দল গোষ্ঠীর নতুন করে লগ্নি, রেল কোচ থেকে ইঞ্জিন উৎপাদন, এমনকি জাহাজ নির্মাণ শিল্প – সব মিলিয়ে রাজ্যকে একটি বড় ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এমএসএমই ক্ষেত্রেও শীর্ষস্থানে থাকার দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
শুধু শিল্প নয়, সমাজকল্যাণেও জোর দিয়েছে শাসকদল। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আলাদা গুরুত্ব দেখা গেছে ইস্তাহারে। অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানরা বাইরে থাকায় বয়স্করা একা হয়ে পড়েন – এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই তাঁদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণের বার্তা স্পষ্ট। ইতিমধ্যেই সাতটি নতুন জেলা তৈরির কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে আরও পৌরসভা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এতে প্রশাসনিক পরিষেবা আরও সহজলভ্য হবে বলেই দাবি।
অন্যদিকে আবাসন ও মৌলিক পরিষেবাকেও বড় প্রতিশ্রুতির জায়গায় রাখা হয়েছে। কাঁচা বাড়িকে পাকা করার লক্ষ্য, এবং প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস পুনরায় উচ্চারণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, উন্নয়ন, শিল্পায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সংস্কার – এই চার স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আগামী দিনের বাংলা গড়ার রূপরেখা তুলে ধরল তৃণমূলের ইস্তাহার।


