নদিয়া: ভোটের আগে সিপিএমের (CPM) স্থানীয় স্তরে সংগঠন মজবুত করতে যে কিছুটা ফাঁকফোকর থেকে গিয়েছে, তা স্পষ্ট। নদিয়ার কালীগঞ্জ আসনে তামান্না খাতুনের মা সাবিনা ইয়াসমিনকে (Tamanna’s mother Sabina Yasmin) বিধানসভার প্রার্থী ঘোষণা করার পরই দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় স্থানীয় কর্মীরা। তামান্নার মা-কে তাঁরা নিজেদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রার্থী হিসেবে মানতে নারাজ।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, সাবিনা ইয়াসমিনের দলের সঙ্গে, সংগঠনের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। এই ঘটনার পরই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি তৃণমূল-বিজেপি সংঘাতের মাঝে নিজেদের অস্তিত্ব ফেরানোর লড়াইয়ে নিহত খুদে তামান্নার আবেগকে ব্যবহার করল সিপিএম (CPM)। তাও আবার স্থানীয় সংগঠনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে! ভোটের মুখে দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে স্থানীয় স্তরের এই মতবিরোধ গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে ওঠার আগেই তাই হয়ত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিল সিপিএম।
দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় সাত জন স্থানীয় সদস্যকে বহিষ্কার করল দিপিএম। শুক্রবার একটি বিবৃতিতে ওই সাত সদস্যের নাম প্রকাশ করেন নদিয়া জেলা সিপিএমের সম্পাদক মেঘলাল শেখ। দলীয় সূত্রে খবর, সইদুল শেখ, সেন্টু শেখ, জহিরউদ্দিন আহমেদ, অজয় সরকার, মোদস্সের মীর, এম রহমান এবং হানিফ মহম্মদকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার প্রথম দফার তালিকা প্রকাশের পর এরাই দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ।
কি বলেছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন?
প্রসঙ্গত, গত বছর কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর তৃণমূলের বিজয়োৎসব থেকে ছোঁড়া বোমা ফেটে মারা যান ১০ বছরের তামান্না খাতুন। সিপিএমের সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকলেও রাজনীতির সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগাযোগ ছিল না বলেছিল তামান্নার পরিবার। তামান্নার মৃত্যুর বিচারের দাবীতে তাঁর পাশে দেখা গিয়েছিল লাল শিবিরকে। সরকারি সাহায্যও নেননি তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন (Tamanna’s mother Sabina Yasmin)।
ভোটের আগে তামান্নার মা-র সিপিএম (CPM) প্রার্থী হওয়ার জল্পনা জোড়াল হতে থাকে। সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁকে কালীগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী বলে ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ হয় স্থানীয় কর্মীদের একাংশ। এই নিয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বলেছিলেন, “মানুষ চেয়েছে বলেই আমি প্রার্থী হয়েছি।” দলের কর্মীরাও তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে বলেছিলেন সাবিনা। তবে অশান্তির পেছনে রাজনৈতিক প্ররোচনা থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।


