24.2 C
Kolkata
Friday, March 13, 2026
spot_img

নারীদের নিয়ে ‘আপত্তিকর’ বক্তব্য, ভোটের আগে বিতর্কে নন্দীগ্রাম !

Aaj India Desk, পূর্ব মেদিনীপুর : নিবার্চনের ঠিক আগে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে (Nandigram) বিজেপি নেতা প্রলয় পালের একটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিও ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন নন্দীগ্রামের (Nandigram) বিজেপি নেতা ও তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি প্রলয় পাল। সেই ভিডিওতে তিনি দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে দোলযাত্রার সময় তৃণমূলের উদ্যোগে যাওয়া কয়েকজন মহিলাকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

ভিডিওতে প্রলয় পালকে বলতে শোনা যায়, অনেক পুরুষ কাজের জন্য গুজরাত বা চেন্নাইয়ে থাকেন এবং বাড়িতে টাকা পাঠান। সেই প্রেক্ষিতে তিনি দাবি করেন, তাঁদের স্ত্রীরা দিঘায় গিয়ে ‘দীক্ষা’ নিচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, বাড়ি ফিরে এসে যেন স্বামীদের স্ত্রীদের ‘গাইনোকোলজিস্টের কাছে নিয়ে যেতে না হয়’। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তৃণমূলের তীব্র আক্রমণ

অন্যদিকে ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই তৃণমূল কংগ্রেস এই মন্তব্যকে নারীদের প্রতি অসম্মানজনক বলে দাবি করেছে। রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “একজন বিজেপি নেতার মুখে নারীদের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য তাঁদের মানসিকতার পরিচয় দেয়। শুধু ওই নেতা নয়, বিজেপি নেতৃত্বেরই লজ্জা পাওয়া উচিত।” রাজ্যের আরেক মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “এটি বাংলা। এখানে মেয়েরা জন্মের পর থেকেই ‘মা’ হিসেবে সম্মান পায়। আমাদের সতীত্ব প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। নারীদের নিয়ে এমন মানসিকতা ও নৈতিক পুলিশিং সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।” পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায়ও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেন। তাঁর দাবি, “একদিকে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ বলা হয়, অন্যদিকে বিজেপি নেতাদের মুখে এমন নারীবিদ্বেষী মন্তব্য শোনা যায়।”

অন্যদিকে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি আনন্দময় অধিকারী বলেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। দিঘা সফরে যাওয়া কয়েকজন মহিলা প্রলয় পালের কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের একজন বলেন, “আমাদের পরিবারের মা-বোনদের নিয়ে এমন মন্তব্য অত্যন্ত অসম্মানজনক।”

নিজের মন্তব্যে অনড় প্রলয় পাল

এদিকে প্রলয় পাল নিজের মন্তব্যকে অপমানজনক বলে মানতে চাননি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি কাউকে অপমান করতে চাইনি। বর্তমানে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতেই পরামর্শ দিয়েছি। তৃণমূল বিষয়টিকে অযথা রাজনৈতিক করছে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রাম (Nandigram) ও পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে তর্ক-বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন