Aaj India Desk, কলকাতা : দুর্গাপুজোর (Durga Puja) কয়েক মাস আগেই বড় সঙ্কটের মুখে পড়ল কলকাতার কুমোরটুলি। প্রতিমা তৈরির জন্য অত্যাবশ্যক গঙ্গার মাটির সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগে শিল্পীরা। এই সূত্রেই বৃহস্পতিবার পদ্মশ্রী সনাতন রুদ্র পাল নেতৃত্বাধীন এক প্রতিনিধিদল এই সমস্যা নিয়ে প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ এবং রাসবিহারী কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তর সঙ্গে দেখা করে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান। এরপরেই তিনি সমাজ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সরব হন।
কী জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক ?
স্বপন দাশগুপ্ত সামাজিক মাধ্যমে জানান, গঙ্গার মাটির সরবরাহ দ্রুত চালু না হলে আসন্ন দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) রাজ্যজুড়ে প্রতিমা তৈরিতে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে দেখার আবেদন জানান।
তিনি বলেন, কুমোরটুলির শিল্পীরা তাঁর কাছে বৈধ ও নির্দিষ্ট উৎস থেকে গঙ্গার মাটি সংগ্রহের অনুমতি বা পৃথক ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
কেনো মিলছে না গঙ্গার মাটি ?
নদীবাঁধ থেকে অবৈধ বালি ও মাটি তোলা রুখতে সম্প্রতি প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তার জেরেই বহু জায়গায় মাটি সংগ্রহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্পীদের অভিযোগ, পুলিশি নজরদারির কারণে পুরনো উৎস থেকেও মাটি আনা যাচ্ছে না। ফলে কর্মশালাগুলিতে কাজের গতি কমে গিয়েছে।একই সঙ্গে পাট ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিও চাপ বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
কেন এই মাটি গুরুত্বপূর্ন ?
কুমোরটুলির প্রতিমা নির্মাণে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের নদীবাঁধের পলিমাটিকেই সাধারণভাবে “গঙ্গার মাটি” বলা হয়। হুগলি ও গঙ্গা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকা থেকে এই মাটি সংগ্রহ করা হয়। এই মাটির সূক্ষ্ম গঠন, আঠালো স্বভাব এবং শুকিয়ে যাওয়ার পর স্থায়িত্ব বড় মাপের প্রতিমা তৈরির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। প্রতিমার মুখমণ্ডল, অলঙ্করণ ও সূক্ষ্ম কারুকাজে এই মাটির ব্যবহার অপরিহার্য।
কুমোরটুলির শিল্পীদের বক্তব্য, তাঁরা বাণিজ্যিক খননের সঙ্গে যুক্ত নন। প্রতিমা তৈরির জন্য সীমিত পরিমাণে নির্দিষ্ট মানের মাটি প্রয়োজন হয়। সেই কারণে তাঁদের ঐতিহ্যবাহী সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে অবৈধ বালি বা মাটি তোলার সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুজো (Durga Puja) শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়। পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির একটি বড় অংশ জুড়ে আছে এই পুজো। প্রতিমা শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন হাজার হাজার শিল্পী, শ্রমিক, পরিবহণ কর্মী ও ছোট ব্যবসায়ী। ফলে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে রাজ্যের পুজো শিল্প ও সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


