30.4 C
Kolkata
Monday, March 9, 2026
spot_img

ইতিহাসের হাতেখড়ি: ভারতের একতরফা জয়

সুরভী কুন্ডু ,কলকাতা : সকাল থেকেই যেন বুকের ভিতরে অন্যরকম একটা ধুকপুকানি। কাজের দিন হলেও মাথার ভিতর শুধু একটা কথাই ঘুরছিল ,আজ ফাইনাল। তাই আগের রাতেই অফিসে বসকে বলে ডিউটির সময়টা একটু এদিক-ওদিক করে নিয়েছিলাম। এখন আপনারাই বলুন, অফিস তো রোজই থাকবে যাওয়া, আসা, বসের বকুনি, সবই চলবে। কিন্তু এমন একটা ম্যাচ? এমন একটা দিন? যদি মিস করতাম, তাহলে কি নিজের জীবন থেকেই একটা ঐতিহাসিক জয়কে মুছে ফেলা হতো না! যাক, সেসব কথা থাক। অন্য একটা কথা বলি। মনে আছে সেই ছেলেটার কথা? হ্যাঁ, Sanju Samson – যে আজ সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু ২০২৬ সালের এই শেষ টি–২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup Final) – র আগে তার অবস্থাটা কেমন ছিল, মনে আছে?একটা সময় ছিল যখন মাঠের ভেতরে নয়, বাইরে বসেই বেশি দেখা যেত তাকে। কখনও জল বোতল নিয়ে দৌড়তে, কখনও ডাগআউটে চুপচাপ বসে থাকতে। এমনও সময় গেছে যখন ক্যাপ্টেন কে সাক্ষাৎকারে বলতে শোনা গিয়েছিল – কাকে বাদ দিয়ে সঞ্জুকে দলে নেওয়া যায়, সেটাই নাকি সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত। ভাবুন তো, সেই সঞ্জু যে একসময় সুযোগের অপেক্ষায় দিন গুনত,

আজ সেই সঞ্জুই ফাইনালের গল্পের নায়ক। গতকালের ম্যাচটা একবার মনে করুন। সঞ্জু না থাকলে কি ভারত ফাইনালে উঠতে পারত? আর উঠলেও কি সেই একই আত্মবিশ্বাসে জয় ছিনিয়ে আনতে পারত নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম ( Narendra Modi Stadium)-এ? ক্রিকেটে নায়করা হঠাৎ করে তৈরি হয় না বুঝলেন তো । সময়, অবহেলা, অপেক্ষা সব মিলিয়েই একদিন তারা নিজের গল্প লেখে।আর গতকাল ছেলে টা তাই করেছে ,সেই গল্পটাই নিজের হাতে লিখল সঞ্জু।এক সময় যে মাঠে বসে থাকত, আজ সেই মাঠের ইতিহাসেই নিজের নাম লিখে দিল। তবু ও আফসোস থেকেই যাচ্ছে , বার বার ছেলে টা সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছেও পুরো রাস্তাটা অতিক্রম করতে পারছে না। তবুও তার এই মনোবল এটাই প্রকাশ করে সে নিজের জন্য না টিমের জন্য খেলে । কালকের প্রথম দু ওভার দেখে এক প্রকার ভেবেই নিয়েছিলাম পাওয়ার প্লে তে হয়তো বা সত্তরের ধারেপাশে হবে । কিন্তু না আমার এই ভাবনাকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করে ৬ ওভারে ৯২ রান সঞ্জু অভিষেক মিলে তুলে নিল ।

টিমে কাকে বাদ দেবো বলুন , গত দুদিন ধরে অভিষেককে নিয়েও তো কম কাটা ছেঁড়া হয়নি , ছেলেটাকে তো বাদ দেওয়ার কথাও চিন্তা-ভাবনা করা হয়েছিল , অন্তত সোশ্যাল মিডিয়ায় তো তাই দেখলাম , কিছুক্ষণের জন্য হলেও তার নিজস্ব ফ্যান ফলোয়ার্সরা পর্যন্ত মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তবে কাল সেই ছেলেটাও রানোমূর্তি ধারণ করলো বিরাট স্টেডিয়ামে, হাঁকিয়ে বসল 50 টি রান , এবার বলুন অংকটা কি নেহাতই কম ছিল নাকি ? কোথায় গেল সব নিন্দে ? সব আলোচনা ? যাকে দেড় ফুট বলে ব্যঙ্গ করতেন কাল কিন্তু ম্যাচে কম ভূমিকা রাখেনি সে !! ব্যাটিংয়ে ছিল দুর্দান্ত পারফরমেন্স ,আক্রমণাত্মক মানসিকতা মাত্র ২৫ বলে ৫৪ রানের ইনিংস , নিখুঁত টাইমিং, এক্সটা পয়েন্ট এর জন্য ফিল্ডিংটাও মন্দ করেনি , বাম্পার ক্যাচ ধরে মারাত্মক তিনটি ব্যাটসম্যানকে বাউন্ডারির বাইরে কিন্তু ঈশানই কিশানি পাঠিয়েছিল Rachin Ravindra, Henry Shipley , Daryl Mitchell, তিন তিনটে নিউজিল্যান্ডের বড় বড় ব্যাটার্স কে বুড়া অগুল দেখিয়ে দিল ঈশান । নিজের ‘পকেট রকেট ‘ নামটার কালকে সদ্ব্যবহার করেছে ছেলে টা । ১১ বারই জয় নিশ্চিত ছিল ভারতের। ‘বাপু ‘ চেনেন ছেলে টা কে ? অহমদাবাদের মাঠে কাল কে আসল ম্যাজিক তো অক্ষর পটেল ই দেখিয়েছ , পাশাপাশি কিন্তু স্টেডিয়াম বরা বরের মতো উত্তেজিত ছিল ‘বুম বুম বুমরা’ তেই হাই হাই ছেলে টা একটার পর একটা উইকেট নিচ্ছে আর হাসি হাসি মুখে মাঝে মাঝেই দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে , সে যে কি উত্তেজনা বলে বোঝানো যাবে না। বাকিদের প্রসঙ্গ আলোচনার মত না হলেও শিবম ডুবে কিন্তু লাস্ট ইনিংসে এসে বাজিমাত করে দিয়ে গেছে , ১৫তম ওভারে পর যখন চাপ কিছুটা বেড়েছিল তখন ব্যাট হাতে নেমেছিল এই শিবম , ২৩০ আদেও উঠবে কিনা যখন অনিশ্চয়তা ছিল ঠিক তখনই ঝড় তুলেছিল এই ছেলে টা , বরাবরের মতো আরো একবার মনে করিয়ে দেয় লাস্ট ইনিংসে খেলার জন্য ছেলে টা সেরার সেরা ,

তবে কালকে ক্যাপ্টেন সূর্য কুমারের সেই রকম পারফরম্যান্স দেখা যায়নি । যদি ২৬শে র টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ(T20 World Cup Final)- র গত তিনটে ম্যাচ বিশ্লেষণ করা যায় তবে দেখা যাবে সূর্য কুমার ফ্লপ , কোনো দুর্ধর্ষ পারফরমেন্স দিয়ে দর্শক মনে দাগ কাটতে পারল না , তবে ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে লা জবাব , শান্ত , বুদ্ধিদীপ্ত।

তাহলে কালকের ম্যাচ শেষ পর্যন্ত চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল – ব্যাড লাক, কুসংস্কার বলে আদতে কিছুই নয় যদি একাগ্রতা ,মনোবল আত্মবিশ্বাস, থাকে তবে ইতিহাস নিজের হাতেই রচনা করা যায় ।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন