কলকাতা: ২০১৪ সালে আসানসোলের মাটিতে দাঁড়িয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন “হামে বাবুল চাহিয়ে”—অর্থাৎ তাঁর বাবুলকে চাই। ভোটাররা সেই ডাক শুনে বাবুলকেই (Babul Supriyo) তুলে দিয়েছিলেন সংসদে। এরপর মন্ত্রিসভাতেও জায়গা মিলেছিল বাবুল সুপ্রিয়র। পরে মন্ত্রিত্ব গেল, আর সাত বছরের মাথায় ২০২১-এ ফুল বদলে তৃণমূলে যোগ দিলেন তিনি।
মোটের উপর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে বেশ ভালোই আছেন বলে মনে হলেও, বাবুল সুপ্রিয়র (Babul Supriyo) সাম্প্রতিক ‘মেজাজ হারানোর’ ঘটনা চাপা ক্ষোভেরই ইঙ্গিত বহন করছে, বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। ২০২১-এ তিনি নিজেই বলেছিলেন, “টিম ইলেভেনে” না থাকলে খেলতে পছন্দ করবেন না। তার চেয়ে ছোট কোনও দলে চলে যাওয়াও অধিক পছন্দ করবেন।
মোহনবাগানের নাম করে বললেও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং দাবী সেদিনই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। কিন্তু সেই প্রসঙ্গেই প্রশ্ন করা হলে রেগে গেলেন কেন সদয় রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo)?
সূত্র বলছে, বেশ কিছুদিন থেকেই তৃণমূলে কোণঠাসা বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo)। বিজেপির থেকে ধাক্কা খাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাঁর প্রতি নেকনজর পড়ে। ধীরে ধীরে মমতা-অভিষেকের আস্থাভাজনও হয়ে ওঠেন তিনি। তবে তৃণমূল সূত্রে খবর, নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে যাওয়া আসা প্রায় ছিল না বললেই চলে।
মন্ত্রীসভার অন্দরে তাঁর নামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নালিশও জমা পড়েছিল নাকি বেশ। তবে বাবুলকে হারালে বিজেপির আক্রমণের মুখে পড়তে হবে, এই আশঙ্কাতেই সম্ভবত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী করে দিল্লিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন, বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।


