Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: পাকিস্তান (Pakistan ) ও আফগানিস্তান ( Afghanistan) এর মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ফের চরমে। পাকিস্তানের তরফে আফগানিস্তানের একাধিক এলাকায় বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে একে সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে ।
সারা রাত সীমান্তে গুলি,গোলাবর্ষণ। তুমুল সংঘাত চলছে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মধ্যে। আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসনের দাবি, সীমান্তে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে মারা হয়েছে। এদিকে, আফগানিস্তানের হামলার পরই পাল্টা জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। একেবারে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এয়ারস্ট্রাইক করেছে পাকিস্তান। কাবুলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে খবর।
২৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতের পর থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির ভোরের আলো ফোটার আগে পর্যন্ত আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের এই সীমান্ত সংঘর্ষে তীব্রতর হয়ে ওঠে। সীমান্তের পাকিস্তানি চৌকিতে হামলা চলে আফগানিস্তানের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। জানা গিয়েছে আফগানিস্তান তাদের উত্তর – পূর্ব সীমান্ত বরাবর পাকিস্তানের উপর হামলা চালায়।
পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মধ্যে এই সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তান দাবি করছে এয়ারস্ট্রাইকের কারণে অনেক তালিবান মারা গিয়েছে। আবার আফগানিস্তানও দাবি করছে তাদের আক্রমণে এখনও পর্যন্ত একাধিক পাকিস্তানি সেনা মারা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আফগানিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই (Hamid Karzai) । তিনি বলেন, ‘আফগান জনগণ তাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে প্রস্তুত। যে কোনও আগ্রাসনের জবাব সাহসের সঙ্গে দেওয়া হবে।’ পাকিস্তানের পদক্ষেপের কড়া নিন্দা করে তিনি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানান।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা মুহাম্মদ আসিফ (Khawaja Muhammad Asif )জানিয়েছেন, সীমান্তে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, ‘দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক এই হামলার জেরে সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ইরান (Iran) সহ একাধিক দেশ পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের সীমান্ত – সংঘাত ও জঙ্গি কার্যকলাপের অভিযোগ থেকেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত। তবে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিতে পারে বলেই আশঙ্কা কূটনৈতিক মহলের।


