Aaj India Desk, নয়াদিল্লি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) বুধবার দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইসরায়েল পৌঁছেছেন। ভারত – ইসরায়েল কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সমঝোতা গড়ে তোলাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) জানিয়েছে, এই সফরে মোদি (Narendra Modi) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি এবং জল ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হবে। সফরকালে তিনি ইসরায়েলি সংসদ কনেসেটে ভাষণও দেবেন।
সফর ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও, গাজায় চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কনেসেটে বক্তব্য রাখার সময় বিষয়টি উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাঁর দাবি, এত নিরীহ মানুষের মৃত্যুর প্রশ্নে ভারতের নৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।
সামাজিক মাধ্যমে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী লেখেন, কনেসেটে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী যেন গাজায় “হাজার হাজার নিরীহ পুরুষ, মহিলা ও শিশুর গণহত্যা” প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীন দেশ হিসেবে ভারত সবসময় ন্যায়, শান্তি ও সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছে এবং সেই অবস্থান বজায় রাখা প্রয়োজন।
এদিকে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে লিখেছেন, আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনার মধ্যেও মোদি তাঁর “ঘনিষ্ঠ বন্ধু” নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শন করছেন। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই সমালোচনার সরাসরি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এই সফরে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ককে ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর স্তরে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার ক্ষেত্রে একাধিক MoU সই হতে পারে।
মোদি (Narendra Modi) সফরকালে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। পাশাপাশি হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধতে শ্রদ্ধা জানাবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রথম ইসরায়েল সফরে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হয়েছিল। বর্তমান সফর সেই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বলে কূটনৈতিক মহলের মত।
এদিকে রাজনৈতিক মহলে উঠছে অন্য প্রশ্নও। যখন পশ্চিমবঙ্গে ভোটের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে, তখন প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে না এসে বিদেশ সফরে কেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিরোধীদের একাংশের দাবি, নির্বাচনের মুখে বাংলায় প্রচার না করে ইসরায়েল সফরকে অগ্রাধিকার দেওয়া বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। যদিও কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে এবং কৌশলগত স্বার্থে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


