Aaj lndia Desk, কলকাতা: দুর্গাপুজো পাস দুর্নীতি মামলায় আপাতত জেলমুক্তির কোনও সুযোগ নেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen)। আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে নগর দায়রা আদালত। অর্থাৎ, দীপাবলি (Diwali) ও কালীপুজোর (Kali Puja) পর চন্দননগরের (Chandannagar) বিখ্যাত জগদ্ধাত্রী পুজোতেও (Jagaddhatri Puja) জেলের চার দেওয়ালের মধ্যেই দিন কাটতে পারে তাঁর। যে উৎসবকে কেন্দ্র করে একসময় নিজের এলাকায় তাঁর উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া, এবার সেই উৎসবেই দেখা মিলবে না প্রাক্তন মন্ত্রীর।
চন্দননগরের অলিগলিতে একসময় ছিল ইন্দ্রনীলের ছবি
গত বছরও জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে চন্দননগরের বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়েছিল ইন্দ্রনীল সেনের ছবি দেওয়া বিশাল হোর্ডিং ও ফ্লেক্স। লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার (Lakshmiganj Bazar), জিটি রোড (GT Road), মানকুণ্ডু (Mankundu) থেকে চন্দননগর স্টেশন রোড (Chandannagar Station Road)—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ছড়িয়ে ছিল সেই প্রচার। পুজোমণ্ডপের আশপাশের অলিগলিতেও দেখা যেত তাঁর ছবি। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গিয়েছে। এবার চন্দননগরের অন্যতম বড় উৎসবে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকার সুযোগই কার্যত থাকছে না তাঁর।
কোন আর্থিক লেনদেন ঘিরে তদন্ত?
মামলার তদন্তে ২০২১-২২ সালের ‘মাস আর্ট’ (Mass Art) নামের একটি সংস্থার মাধ্যমে হওয়া আর্থিক লেনদেন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অভিযোগ, ওই সংস্থার কাছ থেকে আসা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা জমা পড়েছিল ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। সেই অর্থ কী কারণে পাঠানো হয়েছিল, লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী এবং এর সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রীর কোনও প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এর আগে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। পরবর্তী শুনানিতে নগর দায়রা আদালত ২১ নভেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। ফলে আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কাহিনির সঙ্গে অদ্ভুত মিল!
জগদ্ধাত্রী পুজোর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের (Raja Krishnachandra) নাম। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী, নবাব আলিবর্দী খানের (Alivardi Khan) বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে বিজয়া দশমীর দিন নদীপথে কৃষ্ণনগরে ফিরছিলেন রাজা। ঘাটে পৌঁছে বিসর্জনের বাদ্য শুনে তিনি বুঝতে পারেন, সেবছর আর তাঁর দুর্গাপুজো করা হল না। কথিত আছে, সেই রাতেই দেবী দুর্গা স্বপ্নে দেখা দিয়ে তাঁকে জগদ্ধাত্রী রূপে আরাধনার নির্দেশ দেন।
সেই কাহিনিতে বন্দিদশা থেকে মুক্তির পর নতুন পুজোর সূচনার কথা রয়েছে। আর এবার সেই জগদ্ধাত্রী পুজোর সময়েই জেলবন্দি থাকতে হচ্ছে চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ও মন্ত্রীকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, জেলের ভিতর থেকে জগদ্ধাত্রী পুজোয় অঞ্জলি দেওয়ার অনুমতি কি পাবেন ইন্দ্রনীল? নাকি এবারের উৎসব কাটবে সম্পূর্ণ পুজোর আলো থেকে দূরে? উত্তর দেবে আগামী দিনের পরিস্থিতি।


