Aaj India Desk, লখনউ : হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের চেনা ছক ছেড়ে এবার কি রাম-কৃষ্ণের তুলনাতেও বিভেদের সুর? একদিকে রামের সোজা পথ, অন্যদিকে কৃষ্ণের বাঁকা ভঙ্গি! দুই দেবতার মাহাত্ম্য বোঝাতে গিয়ে একজনকে ছোট করার অভিযোগ উঠেছে বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর (Dhirendra Shastri) বিরুদ্ধে। আর তাতেই এমন বিপাকে পড়েছেন তিনি যে, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। কৃষ্ণকে নিয়ে ‘বাঁকা’ মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মানহানির মামলা গ্রহণ করেছে আগ্রার আদালত।
কী বলেছিলেন বাগেশ্বর বাবা?
ঘটনার সূত্রপাত মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে একটি রামকথার অনুষ্ঠানে। সেখানে ভগবান রামের প্রশংসা করতে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণের প্রসঙ্গ টানেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী (Dhirendra Shastri)। তাঁর বক্তব্য ছিল, রাম সোজা পথে চলেন, তাঁর কাজ ও নামও সরল। অন্যদিকে, কৃষ্ণের মূর্তিতে ঘাড় ও কোমর বাঁকানো অবস্থায় তাঁকে বাঁশি বাজাতে দেখা যায়। একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, বাঁশি বাজানো কোনও বিশেষ বিষয় নয়, বরং রামের ধনুকই আসল।
কেন দায়ের হল মামলা?
ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর (Dhirendra Shastri) এই মন্তব্যের পরেই ক্ষোভ ছড়ায় কৃষ্ণভক্তদের মধ্যে। তাঁর বিরুদ্ধে আগ্রার আদালতে অপরাধমূলক মানহানির মামলা দায়ের করেন আইনজীবী অজয় প্রতাপ সিং। অভিযোগকারীর দাবি, এই মন্তব্য শুধু দেশজুড়ে শ্রীকৃষ্ণের ভক্তদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেনি, অপমানিত করেছে শ্রীকৃষ্ণের উত্তরসূরিদেরও। আগ্রার সিভিল কোর্টের বিচারক কাঞ্চন কুমার মামলাটি গ্রহণ করেছেন। আগামী ১৪ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি হবে।
তবে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর অবশ্য নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন বাগেশ্বর বাবা। কিন্তু তাতেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। বিশেষ করে মথুরা-বৃন্দাবনের কৃষ্ণভক্ত ও সাধু-সন্তদের একাংশ তাঁর মন্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, শ্রীকৃষ্ণের বহুবিধ রূপ ও পরিচয়ের মধ্যে বংশীধারী রূপের বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। তাই জনসমক্ষে কোনও দেবদেবীকে নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এখন নজর ১৪ ডিসেম্বরের শুনানির দিকে। আদালতে মামলাটির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে কৃষ্ণ অনুসারীরা!


