Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা: কলকাতার চোরবাগানে ঘটে যাওয়া বিপর্যয়ের মতো ঘটনা যাতে নৈহাটির বড়মার (Naihati Boroma) পুজোয় না ঘটে, তার জন্য আগে থেকেই সতর্ক হচ্ছে মন্দির কমিটি ও প্রশাসন। পুজোর সময় বিপুল ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে আগামী ৬ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য মূল মন্দিরে প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত বছর বড়মার পুজোয় লক্ষাধিক ভক্ত দণ্ডি কেটেছিলেন। এ বার ভক্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। সেই কথা মাথায় রেখে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে পুলিশ। পাশাপাশি কাজে নামবেন ৫০০-র বেশি স্বেচ্ছাসেবক ও এনসিসি ক্যাডেট। সরু রাস্তার কারণে বড় অ্যাম্বুল্যান্স সহজে পৌঁছতে না পারায় জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাখা হচ্ছে বিশেষ টোটো অ্যাম্বুল্যান্স।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের নজরদারিতেই পুজোর সমস্ত ব্যবস্থা করা হবে। আগামী ২৯ অক্টোবর ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে পুরসভা, মন্দির কমিটি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। সেই বৈঠকের পরেই নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থার চূড়ান্ত পরিকল্পনা জানানো হবে। ওই দিন মন্দিরের তৃতীয় প্রতিষ্ঠা দিবসও পালন করা হবে। হোম-যজ্ঞ, পুজো ও ধর্মীয় পাঠের আয়োজন থাকবে। দুপুর দুটো পর্যন্ত ভক্তরা পুজো দিতে পারবেন। যজ্ঞ চলার সময় পুজো দেওয়া বন্ধ থাকলেও মন্দিরে দর্শন করা যাবে। ভক্তদের জন্য ভোগের ব্যবস্থাও থাকবে।
দণ্ডি কাটার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দিয়েছে মন্দির কমিটি। আগামী ৭ নভেম্বর থেকে দণ্ডি শুরু হবে। ৮ নভেম্বর সন্ধে ৬টার মধ্যে তা শেষ করতে হবে। কমিটির মুখপাত্র অনন্ত চট্টোপাধ্যায় এবং যুগ্ম সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বড়মাকে ঘিরে মানুষের আবেগের কথা মাথায় রাখা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের পরে কেউ দণ্ডি কাটতে এলে পুলিশি নির্দেশ মেনেই পরিস্থিতি সামলানো হবে।
দণ্ডি কাটার সময় কোনও পুণ্যার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য বিশেষ দল প্রস্তুত থাকবে। অরবিন্দ রোড ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সাধারণ অ্যাম্বুল্যান্সের পাশাপাশি আইসিইউ অ্যাম্বুল্যান্সও রাখা হবে। সংকীর্ণ গলিতে দ্রুত পৌঁছনোর জন্য থাকবে চারটি টোটো অ্যাম্বুল্যান্স। এগুলির সাহায্যে অসুস্থ ব্যক্তিকে দ্রুত মূল রাস্তায় নিয়ে এসে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া যাবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওআরএস, জরুরি ওষুধ এবং চিকিৎসকদের দল প্রস্তুত থাকবে। মহিলা ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত মহিলা পুলিশও মোতায়েন করা হবে।
পুজোর অন্যান্য ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে মন্দির কমিটি। ২ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত মানতের সোনা-দানা ও প্রণামী জমা দেওয়া যাবে। ৭ ও ৮ নভেম্বর গ্রহণ করা হবে ফল ও মিষ্টির ডালি। ভক্তদের জন্য অনলাইনে পুজো দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে। প্রসাদ বিতরণ সহজ করতে রেললাইনের উল্টো দিকেও বিশেষ কাউন্টার খোলা হবে।
এ ছাড়া পুজোর সময় স্থানীয় বাসিন্দা, প্রতিদিন যাতায়াত করা মানুষ এবং ফেরিঘাটের যাত্রীদের যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, সে জন্য আলাদা যান চলাচলের পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। শীঘ্রই এই ট্র্যাফিক রুটম্যাপ প্রকাশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।


