33.6 C
Kolkata
Wednesday, October 28, 2026
spot_img

‘পুরুষেরও কষ্ট হয়’ – জুঁইয়ের পোস্টের পর মুখ খুলে কী বললেন স্বরূপ বিশ্বাস?

Aaj India Desk, কলকাতা: নিজের দুই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা, আদালতের নির্দেশ মেনে চলা এবং নিজের সম্মান রক্ষার লড়াই আইনের পথেই চালিয়ে যেতে চান স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas)। স্ত্রী জুঁই মজুমদার (Jui Mazumder) বিশ্বাসের সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের পর এবার একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন তিনি। সেই বিবৃতিতে একাধিক অভিযোগও তুলেছেন স্বরূপ।

স্বরূপের বক্তব্য, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এতদিন তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। কিন্তু তাঁর নীরবতাকে দুর্বলতা হিসেবে ধরে নিয়ে তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। দুই মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাদের সঙ্গে দেখা করার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণের বদলে আইনি পথেই নিজের অধিকার আদায়ের পক্ষে সওয়াল করেছেন স্বরূপ।

আদালতের নির্দেশ মেনেও মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়নি, অভিযোগ স্বরূপের। স্বরূপের দাবি, গত রবিবার আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কোর্ট কমিশনারের উপস্থিতিতে একটি শপিং মলে ছোট মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বরূপ।

কেন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সাক্ষাৎ সম্ভব হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন। স্বরূপের বক্তব্য, বিষয়টি ব্যক্তিগত বিরোধের নয়। বরং সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবে কার্যকর হওয়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

জুঁইয়ের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের পর স্বরূপের পাল্টা বক্তব্য

সম্প্রতি জুঁই মজুমদার বিশ্বাস একটি বিবৃতি দিয়ে বিচারাধীন বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানদের হেফাজত সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা না করার আবেদন জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি, কুণাল ঘোষের একটি রাজনৈতিক পোস্টে ‘এক নেতার ভ্রাতৃবধূ’ বলে যে উল্লেখ করা হয়েছিল, সেটি তাঁকে উদ্দেশ্য করেই করা হয়েছে বলে দাবি করেন জুঁই।

স্বরূপ জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যায় জুঁইয়ের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি তাঁর নজরে আসে। তাঁর অভিযোগ, সেখানে তাঁকে ‘Hooliganism’-এর সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করা হয়েছে। সেই কারণেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

তবে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা তাঁর উদ্দেশ্য নয় বলেও জানিয়েছেন স্বরূপ। তাঁর মতে, কোনও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হলে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই বিচার করা উচিত। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

দুই মেয়েকে নিয়ে উদ্বেগ, উঠল একাধিক প্রশ্ন

নিজের দুই মেয়েকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে উল্লেখ করেছেন স্বরূপ। তাঁর অভিযোগ, বড় মেয়েকে শিক্ষাবর্ষ চলাকালীন তাঁর সঙ্গে আলোচনা না করেই রাজ্যের বাইরে পাঠানো হয়েছে। কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অন্যদিকে, ছোট মেয়ের সঙ্গে দেখা করা এবং যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন স্বরূপ। তবে সন্তানদের উপর কোনও ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করতে চান না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। স্বরূপের বক্তব্য, দুই মেয়ে যেন নিরাপদ পরিবেশে থাকতে পারে এবং বাবা-মায়ের মধ্যে চলা বিরোধের প্রভাব ছাড়াই দু’জনের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ পায়। তাঁর মতে, সন্তানদের কখনও ব্যক্তিগত বিরোধের মধ্যে টেনে আনা উচিত নয়।

গ্রেফতারি ও বিবাহবিচ্ছেদের মামলা নিয়ে কী বললেন?

নিজের বিবৃতিতে কয়েকটি ঘটনার তারিখও উল্লেখ করেছেন স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের ৪ জুন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং ১৭ জুলাই জামিনে মুক্তি পান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জুঁই মজুমদার বিশ্বাস যে ১৭ জুন বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছিলেন, তা তিনি পরে জানতে পারেন। এ ছাড়াও বড় মেয়ের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও নোটিশ পৌঁছেছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন স্বরূপ। তাঁর অভিযোগ, গ্রেফতারি, বিবাহবিচ্ছেদের মামলা এবং মেয়েদের পড়াশোনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলির সময়কাল নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে।

এমনকী, নিজের গ্রেফতারির পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে এগুলি স্বরূপের নিজস্ব অভিযোগ ও আশঙ্কা। এর সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির নিষ্পত্তি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া প্রয়োজন।

‘পুরুষেরও কষ্ট হয়’, বিবৃতিতে স্বরূপ

নিজের বক্তব্যে স্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, পুরুষদেরও মানসিক কষ্ট হয়, তাঁরাও চোখের জল ফেলেন এবং অন্যায়ের শিকার হতে পারেন। তাঁর মতে, কোনও অভিযোগ বা ঘটনার বিচার নারী কিংবা পুরুষের পরিচয় দেখে করা উচিত নয়। বরং তথ্য, প্রমাণ এবং ন্যায়ের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে স্বরূপ বিশ্বাসের প্রকাশিত বিবৃতিতে থাকা বক্তব্য ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানদের হেফাজত সংক্রান্ত বিষয়গুলি বিচারাধীন থাকায়, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আদালতের রায়ের অপেক্ষা করতে হবে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন