Aaj India Desk: বাঙালির ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো (Kojagari Lakshmi Puja) মানেই পরিচ্ছন্নতা, আলপনা আর দেবীকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি। পুজোর সাজসজ্জার মধ্যে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকার রীতিও বিশেষভাবে প্রচলিত। অনেক বাড়িতেই দরজা থেকে ঠাকুরঘর পর্যন্ত এঁকে দেওয়া হয় ছোট ছোট পায়ের চিহ্ন। লোকবিশ্বাস, এই প্রতীকী পথ ধরেই দেবী লক্ষ্মী গৃহে প্রবেশ করেন। কিন্তু এই আলপনা আঁকার সময় কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখা উচিত? কোথায় আঁকলে ভালো, আর কোন জায়গা এড়িয়ে চলেন অনেকে?
পায়ের ছাপ আঁকার সময় দিকের গুরুত্ব
লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় পায়ের আঙুলের অভিমুখকে। প্রচলিত রীতি অনুসারে, পায়ের আঙুল থাকবে ঘরের ভিতরের দিকে। গোড়ালির দিক থাকবে বাইরের দিকে। অর্থাৎ, ছাপগুলি এমনভাবে আঁকা হবে, যাতে দেখে মনে হয় কেউ বাইরে থেকে বাড়ির ভিতরে এগিয়ে আসছেন। দেবীর আগমন এবং সংসারে মঙ্গল কামনার প্রতীক হিসেবেই এই রীতি অনুসরণ করেন অনেকে।
ঠাকুরঘর থেকে রান্নাঘর, কোথায় আঁকবেন?
বাড়িতে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকার জন্য প্রথম পছন্দ হতে পারে পুজোর স্থান। ঠাকুরঘরের সামনে পরিষ্কার মেঝেতে এই আলপনা আঁকেন বহু মানুষ। কেউ কেউ সদর দরজার ভিতরের অংশ থেকে শুরু করে পুজোর আসন পর্যন্ত পায়ের ছাপ সাজিয়ে দেন।
সংসারের সমৃদ্ধির কামনায় অনেকে টাকা রাখার আলমারি, লকার কিংবা সিন্দুকের কাছেও এই চিহ্ন আঁকেন। আবার চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী যেখানে রাখা হয়, সেই জায়গার কাছেও লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ দেওয়ার চল রয়েছে। অন্নের অভাব দূর হওয়া এবং সংসারে প্রাচুর্য বজায় থাকার আশাতেই এমনটা করা হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
কোন জায়গাগুলি এড়িয়ে চলবেন?
আলপনা যাতে সহজে নষ্ট না হয়, সে জন্য চলাচলের ব্যস্ত জায়গায় পায়ের ছাপ আঁকা এড়িয়ে চলেন অনেকে। সিঁড়ি, জুতোর চলাচলের স্থান এবং বাথরুম বা শৌচাগারের আশপাশেও এই আলপনা না আঁকার পরামর্শ দেওয়া হয় প্রচলিত রীতিতে। সদর দরজার বাইরের বদলে ভিতরের অংশে পায়ের ছাপ আঁকতে পছন্দ করেন অনেক পরিবার।
তবে এই নিয়মগুলি মূলত ধর্মীয় আচার ও লোকবিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত। পরিবার এবং অঞ্চলভেদে রীতির পার্থক্য থাকতে পারে। তাই পুজোর আয়োজনের সময় নিজের পারিবারিক প্রথা মেনে চলার পাশাপাশি বাড়ি পরিষ্কার রাখা এবং ভক্তিভরে দেবীর আরাধনা করাই গুরুত্বপূর্ণ।


