কলকাতা: সপ্তমীর মর্মান্তিক বিপর্যয়ের ছায়া কাটিয়ে শনিবার নিরঞ্জনের পথে চোরবাগানের (Chorbagan) মা দুর্গা। কিন্তু এবার না হল বরণ, না হল সিঁদুর খেলা। বিদায়ের মুহূর্তে বাসিন্দাদের কণ্ঠে শুধু একটাই প্রার্থনা, ‘মা, কোনও ভুল হলে ক্ষমা কোরো।’
সপ্তমীর সন্ধ্যায় আচমকা বৃষ্টির মধ্যে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছিল চোরবাগানের (Chorbagan) পুজোর আবহ। তারপর থেকেই প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। দশমী পেরিয়ে গেলেও স্পষ্ট ছিল না, কবে মাকে বিদায় জানানো হবে। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার মণ্ডপ পরিদর্শনের পর সিটের প্রধান, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী জানান, প্রতিমা নিরঞ্জনে আপত্তি নেই। তবে তদন্তের স্বার্থে মণ্ডপের মূল কাঠামো আগের মতোই অক্ষত রাখতে হবে।
সেই নির্দেশ মেনেই শনিবার প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করে পুজো কমিটি। প্রায় ৪০ জন কুলির সাহায্যে দুপুর ২টো নাগাদ মণ্ডপ থেকে বের করা হয় প্রতিমা। অক্ষত রাখা হয় মণ্ডপের মূল অংশ। এরপর কিছুক্ষণের জন্য সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে রাখা হয় দুর্গাপ্রতিমা। মাকে শেষবারের মতো দেখতে সেখানে ভিড় জমান এলাকার বাসিন্দারা।
কিন্তু এ বিদায় অন্য সব বছরের মতো নয়। নেই বরণের আনুষ্ঠানিকতা, নেই সিঁদুর খেলার উচ্ছ্বাস। আনন্দের সেই চেনা মুহূর্তগুলির বদলে রয়েছে অজানা আশঙ্কা আর গভীর আক্ষেপ। পুজোয় কোনও ত্রুটি থেকে গেল কি না, তা-ও বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকে।
তাই মাকে বিদায় জানানোর আগে তাঁদের একটাই আকুতি, “মা, সবকিছুর জন্য আমাদের ক্ষমা করে দিও।”
নিয়ম মেনে প্রতিমা বিসর্জন হবে, কিন্তু চোরবাগানের (Chorbagan) মানুষের মনে এবারের পুজোর স্মৃতি থেকে যাবে গভীর ক্ষত হয়ে। মাকে বিদায় জানানো হল ঠিকই, কিন্তু সেই বিদায়ে উৎসবের হাসি নেই, আছে চোখের জল, প্রার্থনা আর হারানোর বেদনা।


