কলকাতা: পালাবদল,শিবির বদলের পর বঙ্গ রাজনীতির ‘কালারফুল’ চরিত্র মদন মিত্রের (Madan Mitra) গলায় বারবার উঠে আসছে হতাশার সুর! রাজনীতিতে ঘৃণা, মানুষের দুর্দশা আর নিজের অসহায়তার কথা বলতে গিয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ভাবনার কথা জানালেন কামারহাটির বিধায়ক। তবে চমক রয়েছে আরও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও বিজয়ার শুভেচ্ছা জানালেন তিনি।
রাজনীতির ময়দানে তাঁর উপস্থিতি মানেই নানা রঙের সমাহার। কখনও দাপুটে রাজনৈতিক নেতা, কখনও বিতর্কের কেন্দ্রে, আবার কখনও নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসা, মদন মিত্রকে (Madan Mitra) ঘিরে চর্চার শেষ নেই। কিন্তু সেই মদন মিত্রের মুখেই এবার রাজনীতি নিয়ে একরাশ বিতৃষ্ণা! স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি ক্লান্ত। এমনকী, সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবছেন।
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন কামারহাটির বিধায়ক। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বদলের আবহে মদন মিত্রকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্দশা এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে হতাশার কথাই উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।
একটি সাক্ষাৎকারে মদন (Madan Mitra) জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ ভয় ও দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর কথায়, এবারের দুর্গাপুজোর আবহও বিগত বছরগুলির তুলনায় অনেকটাই আলাদা। আগের পুজোগুলিতে এত চোখের জল দেখতে হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উৎসবের আনন্দের বদলে এবার যেন বিষণ্ণতা আর বেদনার ছায়া বেশি অনুভব করছেন।
শুধু রাজনৈতিক পরিবেশ নয়, নিজের নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মদন। তাঁর দাবি, উত্তর ২৪ পরগনায় নিজের এলাকায় অবাধে ঘোরাফেরা করা কিংবা ভোটারদের কাছে পৌঁছনো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। যাঁরা তাঁকে ভোট দিয়েছেন, তাঁরাও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না বলে আক্ষেপ করেন তিনি। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হতে চান না বলেও জানিয়েছেন এই বিধায়ক।
আর সেই হতাশা থেকেই কি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ভাবনা? মদনের (Madan Mitra) কথায়, “একটা উপায় হল রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া। আমি খুব ক্লান্ত। রাজনীতিতে এত ঘৃণা। আমি রাজনীতিকে ঘৃণা করি।”
রাজনীতির ময়দানে দীর্ঘদিন কাটানো একজন নেতার মুখে এমন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। তবে এখনই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমনটা বলা যাচ্ছে না। বরং তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে তিনি যথেষ্ট হতাশ এবং সক্রিয় রাজনীতিতে থাকার বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন।
এরই মধ্যে তাঁর আরেকটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী, দু’জনকেই বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মদন। তিনি বলেন, “আমি দিদি এবং আমার ছোট ভাই শুভেন্দুকে শুভকামনা জানাই।”
শুধু তাই নয়, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যস্ততার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। মদনের (Madan Mitra) বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী প্রতিদিন নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে একজন নাগরিক হিসেবে তিনি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান।
রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্যের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও, মদনের বক্তব্যের মূল সুর কিন্তু হতাশা আর ক্লান্তির। একদিকে রাজনীতির প্রতি বিতৃষ্ণা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে না পারার আক্ষেপ, সব মিলিয়ে তাঁর কথায় উঠে এসেছে এক অন্য মদন মিত্র।
যে মানুষটিকে এতদিন রাজনৈতিক মঞ্চে স্বতঃস্ফূর্ত ও রঙিন মেজাজে দেখা গিয়েছে, তাঁর মুখে এবার রাজনীতি ছাড়ার ভাবনা। সত্যিই কি সক্রিয় রাজনীতিতে ইতি টানবেন মদন (Madan Mitra)? নাকি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এমন মন্তব্য? উত্তর দেবে সময়। আপাতত তাঁর বক্তব্য ঘিরেই বঙ্গ রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে।


