Aaj India Desk, কলকাতা : কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের আগে তৃণমূলের দুই শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে। দলের নাম ও প্রতীকের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রমাণ করতে কর্মী-সমর্থকদের হলফনামা সংগ্রহে ব্যস্ত কালীঘাটের তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বেশি সংখ্যায় হলফনামা জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। (TMC Symbol Dispute)
দুর্গাপুজো মিটতেই কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটকে ঘিরে দুই শিবিরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির বিরোধী দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস একাই পুরভোটে লড়তে চায়। তবে আপাতত প্রার্থী বাছাইয়ের চেয়েও দলের নাম ও প্রতীকের দাবিতে সাংগঠনিক শক্তি প্রমাণ করাই দুই শিবিরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। (TMC Symbol Dispute)
কর্মীপিছু চার পাতার হলফনামা
দুই পক্ষই নির্দিষ্ট কার্যালয়ে পেশাদার কর্মীদের কাজে লাগিয়ে বিধানসভাভিত্তিক ভোটার তালিকা ধরে হলফনামা পূরণের কাজ চালাচ্ছে। কর্মীপিছু চার পাতার হলফনামা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বেশি সংখ্যায় হলফনামা জমা দিয়ে নিজেদের সঙ্গে অধিক সংখ্যক দলীয় কর্মী ও সদস্য রয়েছেন, আদালতে সেই দাবি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে দুই শিবিরই। অন্যদিকে, কালীঘাট শিবিরের নেতা কুণাল ঘোষের অভিযোগ, পুলিশকে কাজে লাগিয়ে হলফনামা পূরণের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে ঋতব্রত শিবির। (TMC Symbol Dispute)
২০৯টি ওয়ার্ডে একা লড়ার বার্তা
এর মধ্যেই বাইপাসের কাছে তৃণমূল ভবনে পুরভোটের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, মদন মিত্র ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-সহ একাধিক নেতা। বিভিন্ন জেলায় হলফনামা তৈরির কাজের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখা হয়। কলকাতার বিদায়ী কাউন্সিলরদের একাংশ বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতার ২০৯টি ও হাওড়ার ৬৮টি ওয়ার্ডেই একা প্রার্থী দিতে চায়। অন্যদিকে কংগ্রেস বা বাম দল মমতাপন্থী তৃনমূলের সাথে জোট করতে রাজি নয়, ফলে তাদেরও একাই লড়তে হবে।
এখন নজর ৩০ অক্টোবরের দিকে। সুপ্রিম কোর্টে দুই শিবির কতগুলি হলফনামা জমা দেয় এবং দলের নাম ও প্রতীকের দাবিতে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি কতটা প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সেটাই দেখার।


