Aaj India Desk, কলকাতা: নন্দীগ্রামের (Nandigram) রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক বিতর্কিত অধ্যায়। তার মধ্যে অন্যতম শেখ সুফিয়ানের (Sheikh Sufian) বিলাসবহুল ‘জাহাজ বাড়ি’। একসময় যে বাড়িকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চর্চা হত, রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই স্থাপনাকে কেন্দ্র করেই এবার দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জনপ্রতিনিধিদের আচরণ থেকে শুরু করে দুর্নীতির অভিযোগ সব ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখার উপরে জোর দিলেন তিনি।
নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়েই নেতাদের সতর্কবার্তা
রবিবার দুর্গাপুজোর আগে রেয়াপাড়ার একটি শারদীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে উপহার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন তিনি। সেই মঞ্চ থেকেই পঞ্চায়েত সদস্যদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিদের এমন কোনও আচরণ করা উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার সুযোগ পান।
শুভেন্দু বুঝিয়ে দেন, ক্ষমতা হাতে পেয়ে অহংকার বা ঔদ্ধত্য দেখানো চলবে না। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাঁদের পাশে থেকেই কাজ করতে হবে। কোনও ধরনের অন্যায় বা দুর্নীতির অভিযোগ যাতে দলের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে না ফেলে, সে দিকেও নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই নন্দীগ্রামে নতুন করে আর কোনও ‘জাহাজ বাড়ি’ তৈরি হওয়ার পরিস্থিতি যেন না আসে, সেই সতর্কবার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পূরণের আশ্বাস
বক্তব্যে নন্দীগ্রামের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি জানান, আজীবন এই এলাকার ভোটার হয়ে থাকতে চান এবং স্থানীয় মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাবেন। নতুন বিধায়ক হাসিরানি রথ (Hasirani Rath) এলাকার মানুষের সেবায় দায়িত্ব পালন করবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি একসঙ্গে নয়, বরং ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উন্নয়নের পাশাপাশি জনসংযোগ এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
কেন বারবার আলোচনায় শেখ সুফিয়ানের জাহাজ বাড়ি?
শেখ সুফিয়ানের বিশাল বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ ছিল, তোলাবাজি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে ওই প্রাসাদোপম অট্টালিকা তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের সূত্রে সিআইডি (CID) আধিকারিকরা একাধিকবার বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযোগ এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধ এক বিষয় নয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পুরনো এই বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু দলের নেতা-কর্মীদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) আগেও দলে সুবিধাবাদীদের অনুপ্রবেশ নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


