Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : যন্তর মন্তর ২ এর শো শুরু হওয়ার আগেই বাধা! দিল্লিতে বিমানবন্দরেই আটক হলেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Deepke)-সহ একাধিক আন্দোলনকারী। যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই তাঁদের আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অভিজিৎ দীপকে।
বিমানবন্দরেই আটক দীপকেরা
শনিবার ১০ অক্টোবর সকালে দিল্লিতে পৌঁছন অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Deepke), সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা-সহ সিজেপি-র (CJP) একাধিক নেতা। তাঁদের যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে সেখানে পৌঁছনোর আগেই বিমানবন্দরে তাঁদের আটক করে দিল্লি পুলিশ।
‘ইন্দিরা গান্ধীর সময়েও এমন হয়নি’
আটক হওয়ার পর দিল্লি বিমানবন্দরে দাঁড়িয়েই পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Deepke)। তাঁর বক্তব্য, জরুরি অবস্থার সময়েও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এমন পদক্ষেপ করেননি। দীপকেরের অভিযোগ, তাঁরা কেবল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলেন। অথচ তাঁদের অপরাধীদের মতো বিমান থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আটক করার পর অভিজিৎ দীপকে-সহ সিজেপি নেতাদের অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরের তরফে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের কোথায় রাখা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরে কড়াকড়ি
এ দিন যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল করে যাওয়ার সময় স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই)-এর ৪০০-রও বেশি সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বামনেত্রী বৃন্দা কারাতও রয়েছেন। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সদস্যদেরও আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে শনিবার সকালে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি দেয় দিল্লি পুলিশ। সেখানে নাগরিকদের প্রতিবাদ জানানোর অধিকার এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দুইয়ের কথাই উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে পুলিশের তরফে মানবিকতার দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, এই প্রতিবাদ কর্মসূচির নেপথ্যে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন বিরোধী শিবিরের কয়েকটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ তোলেন।
যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই একাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করার ঘটনায় দিল্লির রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার এবং পুলিশের পদক্ষেপ এই দুই বিষয়কে ঘিরেই এখন প্রশ্ন উঠছে।


