Aaj India Desk, উত্তর চব্বিশ পরগনা : টাকি পুরসভায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে CID তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পুরসভার জমি লিজ, ভাসমান রেস্তরাঁ তৈরি এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নজরদারিতেই এবার এই অভিযোগগুলির তদন্ত করবে রাজ্যের CID। একইসঙ্গে, মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণেরও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
এই অভিযোগ সামনে এনেছেন টাকি পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাশ। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে পুরসভার বিভিন্ন কাজ এবং সম্পত্তি ব্যবহারে নিয়ম মানা হয়নি। ২০২৩ সালে তৎকালীন পুর চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং পুর ও নগর উন্নয়ন দফতরেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর। প্রদ্যুৎ দাশের আরও অভিযোগ, দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পর তাঁকে চাপ দেওয়া হয়। এমনকি তাঁকে শাসানি এবং খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে আদালতে দাবি করেন তিনি। এরপরই হাইকোর্টে মামলা করেন প্রাক্তন কাউন্সিলর।
মামলায় পুরসভার জমি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ‘গোপাল ব্রিগ ফ্রিল্ড’-কে প্রায় চার বিঘে পুরসভার জমি ইটভাটার জন্য মাত্র ৪২০ টাকায় লিজ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও পুরসভা রেজুলেশন ছিল না বলেও দাবি মামলাকারীর। এছাড়া ‘সোনার বাংলা’ হোটেলের জন্য জমি বছরে মাত্র ১২০ টাকায় লিজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইছামতী নদীতে ভাসমান রেস্তরাঁ তৈরির নামেও প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পুরসভার এক লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক প্রবীর চট্টোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৭২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা জমা পড়েছিল।
এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার আদালতের নজরদারিতে CID তদন্ত হবে। টাকি পুরসভার আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সত্যিই কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, তদন্তেই তা স্পষ্ট হবে।


