Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) অপসারণের দাবি নিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) সঙ্গে দেখা করতে চান ইন্ডি জোটের নেতারা। এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার সময় চাওয়া হয়েছে। যদিও এখনও রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে ওই চিঠির কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি।
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে সরব ইন্ডি জোটের নেতারা। সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে তাঁদের আপত্তি আরও তীব্র হয়েছে। তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বিরোধী জোটের নেতারা।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে নিজেদের অভিযোগ রাষ্ট্রপতির কাছে জানাতে চান ইন্ডি জোটের নেতারা। পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর দাবিও রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরতে চান তাঁরা। সেই কারণেই আগামী তিন দিনের মধ্যে সাক্ষাতের সময় চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতিকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, অখিলেশ যাদব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ওমর আব্দুল্লা, শরদ পাওয়ার, এম এ বেবি, তেজস্বী যাদব-সহ ইন্ডি জোটের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চান। এখন রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে কী উত্তর আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এদিন সংসদ চত্বর থেকে কমিশনের দফতর পর্যন্ত মিছিল করেন ইন্ডি জোটের সাংসদরা। শুরু থেকেই এই কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল। মাঝপথে পুলিশ তাঁদের আটকে দিলে ব্যারিকেডের উপরে উঠে লাউডস্পিকার হাতে প্রতিবাদ করেন রাহুল গান্ধী।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্র-সহ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। এরপরও রাহুল গান্ধী ঘুরপথে নির্বাচন কমিশনের দফতরে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। পরে তিনি আকাশবাণী ভবনের দিকে চলে যান। সেখানে গিয়ে প্রতিবাদে বসেন বিরোধী নেতারা। ভবনের ভিতরে তাঁদের বসতে দেওয়া না হলে গাছের তলায় বসেই ধর্না শুরু করেন তাঁরা। রাতের দিকে সেখানে পৌঁছন ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র-সহ তৃণমূলের নেতারাও। তাঁরাও আন্দোলনে যোগ দেন।
এর মধ্যে লখনউ যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অখিলেশ যাদব। কিন্তু মাঝপথে পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে তিনিও ফিরে আসেন এবং আন্দোলনে যোগ দেন। এরপর আকাশবাণী ভবন চত্বরে একের পর এক পুলিশের গাড়ি ও বাস ঢোকে। শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ একাধিক নেতাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এখন রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ইন্ডি জোটের চিঠির কী উত্তর আসে, সেটাই দেখার।


