Aaj India Desk, পূর্ব মেদিনীপুর: পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম (Nandigram) এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে (Rejinagar) মঙ্গলবার চলছে বিধানসভা উপনির্বাচন (By-Election)। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ, চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। দুই কেন্দ্রেই ভোট ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে আগামী ৯ অক্টোবর।
দুপুর ১টা পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, রেজিনগরে ভোট পড়েছে ৫৬.৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে নন্দীগ্রামে ভোটদানের হার আরও বেশি। সেখানে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৬০.৩২ শতাংশ ভোট পড়েছে।
নন্দীগ্রামে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের ৭০০ সশস্ত্র কর্মী। মোট ৩২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৯টি বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন রয়েছে।
রেজিনগরেও নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখা হয়নি। সেখানে মোতায়েন রয়েছে ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। মোট ৩১৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৮২টি মূল এবং ৩৩টি সহায়ক কেন্দ্র। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সশস্ত্র জওয়ান। পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন ১৪৪ জন পুলিশ আধিকারিক-সহ মোট ৮১৯ জন রাজ্য পুলিশকর্মী।
এদিন নন্দীগ্রামে ভোট দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ শান্তিকুঞ্জ থেকে বেরিয়ে কনভয় থেকে নেমে টোটোয় করে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছন তিনি। ভোট দেওয়ার পর বুথের ভিতর বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় তাঁকে।
ভোট দেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “উপনির্বাচনে সাধারণত কম ভোট পড়ে। নন্দীগ্রামে শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে। আমি মুখ্যমন্ত্রী, সরকারি নিরাপত্তা পাই। আইন সকলের মেনে চলা উচিত। আমি ভোট দেওয়ার পর ভাড়া ঘরে থাকতে পারি। বুথের বাইরে যাওয়া, প্রচার করার সুযোগ নেই। আমি সেসব করব না।”এরপরই বিজেপির জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “আমার বিশ্বাস, এবারও রেকর্ড ভোটে জিতবে বিজেপি।”
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। এরপর থেকেই নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বারবার আলোচনা হয়েছে। এদিন ভোট দেওয়ার পর ফের নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নন্দীগ্রামের ভোটারই থাকব।”


