Aaj India Desk , কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)-এর ক্যাম্পাসে ফের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা। শিক্ষা ও একাধিক নীতিগত ইস্যুকে সামনে রেখে আগামী ৫ অক্টোবর একটি কনভেনশনের আয়োজন করেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। ‘জেনজি আন্দোলন: প্রজন্ম ও প্রতিরোধের ঐক্য’ (Gen Z Movement: Unity of Generations and Resistance) নামের এই কর্মসূচিকে ঘিরেই আপত্তি তুলেছে বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এনে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান করার অনুমতি রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছে তারা।
নির্ধারিত হয়েছে ৫ অক্টোবর
আগামী সোমবার দুপুর ২টোয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেপি বসু মেমোরিয়াল হলে (K.P. Basu Memorial Hall) কনভেনশনটি হওয়ার কথা। আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টারে বেশ কয়েকটি দাবি সামনে রাখা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (National Education Policy 2020) বাতিল, জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (National Testing Agency বা NTA) বাতিল, স্কুল ও শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষা, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) বাতিল এবং আইএসআই বিল (ISI Bill) বাতিলের দাবিতে কর্মসূচি হওয়ার কথা।
থাকবেন একাধিক ছাত্রনেতা
আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, কনভেনশনে সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (SFI)-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যেরও থাকার কথা। বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বের পাশাপাশি সিজেপি (CJP)-র একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত থাকতে পারেন।
এছাড়াও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সংগঠনের সম্পাদক আফরিনের উপস্থিতির কথা জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র (Ballygunge Assembly Constituency) থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।
‘বাইরের লোক’ নিয়ে আপত্তি
এই কর্মসূচির বিষয়বস্তুর পরিবর্তে মূলত অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবিভিপি ইউনিটের সভাপতি নিখিল দাসের বক্তব্য, ক্যাম্পাসে বাইরের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে এসে কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিয়ম এবং আদালতের নির্দেশ রয়েছে।
কনভেনশনের জন্য এই ধরনের অনুমতি কীভাবে দেওয়া হল, কারা অনুমতি দিল এবং বাইরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতির ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা হয়েছে কি না—সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়গুলি জানতে চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পাল্টা কর্মসূচি নয়, চিঠিতেই আপত্তি
ABVP-র তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হবে। তবে বামেদের এই কনভেনশনের পাল্টা কোনও কর্মসূচি করার পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে জানিয়েছেন নিখিল।
আগের ঘটনাই কি ফের আলোচনায়?
এর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়াম (Triguna Sen Auditorium)-এ ‘হরিপদ ভারতী স্মৃতিরক্ষা সমিতি’ (Haripada Bharati Smritiraksha Samiti)-র উদ্যোগে একটি জাতীয়তাবাদী সম্মেলন ঘিরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাইরের ব্যক্তিদের উপস্থিতি এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের তরফে জানানো হয়েছিল, হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনেই অনুষ্ঠান ও অডিটোরিয়াম ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এবার বাম ছাত্র সংগঠনগুলির কনভেনশন ঘিরেও একই ধরনের প্রশ্ন ওঠায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ৫ অক্টোবর ABVP-র চিঠির পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর।


