Aaj India Desk, কলকাতা : আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ফের CBI-এর হাতে গিয়েছে। একইসঙ্গে আগের তদন্তের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভয়ার মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। তাঁর অভিযোগ, বারবার জানানো সত্ত্বেও দেহ সৎকারের বিষয়টিকে শুরু থেকেই যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।
কেন ফের CBI-এর হাতে মামলা ?
২ অক্টোবর কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, খড়দহ থানায় দায়ের হওয়া ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের পর তাঁর দেহের শেষকৃত্যের পরিস্থিতি নিয়ে মামলার যাবতীয় নথি CBI-এর আদালত-নির্দেশিত SIT-এর হাতে তুলে দিতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, একই বিষয় নিয়ে রাজ্য পুলিশ ও CBI একইসঙ্গে তদন্ত চালাতে পারে না।
কী বলছেন অভয়ার মা?
ব্যারাকপুরের গান্ধীঘাটে দাঁড়িয়ে রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath) বলেন, “প্রথম থেকেই এই বিষয়ে গুরুত্ব দেয়নি। আমরা বারবার বলা সত্ত্বেও দেয়নি।” তাঁর বক্তব্য, পরিবারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। তবে হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্তে তিনি সন্তুষ্ট নন। রত্নার দাবি, পরিবার কখনও চায়নি যে এই নির্দিষ্ট তদন্তের দায়িত্ব CBI-এর হাতে যাক। একইসঙ্গে CBI-এর আগের তদন্ত নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
মূল মামলা থেকে আলাদা?
রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath) স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তড়িঘড়ি দেহ সৎকার সংক্রান্ত অভিযোগটি মূল ধর্ষণ-খুনের মামলার সঙ্গে এক করে দেখছেন না তিনি। তাঁর কথায়, মেয়ের দেহ কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে সৎকার করা হয়েছিল, সেটিই এই পৃথক আইনি লড়াইয়ের বিষয়।
তবে আদালতের বর্তমান নির্দেশে বিষয়টি CBI-এর আদালত-নির্দেশিত SIT-এর তদন্তের পরিসরের মধ্যেই চলে এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে হাই কোর্ট তিন সদস্যের CBI SIT-কে ৯ আগস্টের রাত থেকে পরদিন দেহ সৎকার পর্যন্ত ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিল।
ফলে আরজি করের মূল ধর্ষণ-খুনের মামলার পাশাপাশি দেহ সৎকার ও ঘটনার পরবর্তী সময়ের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত নতুন পর্যায়ে পৌঁছল। রত্না দেবনাথের অভিযোগ এবং CBI-এর ভূমিকা নিয়ে তাঁর প্রশ্নের পাশাপাশি এখন নজর থাকবে আদালত-নির্দেশিত SIT-এর তদন্তে। দেহ সৎকারের সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং সেই ঘটনায় কারও অপরাধমূলক ভূমিকা ছিল কি না, তদন্তে তারই উত্তর খোঁজা হবে।


