Aaj India Desk, পূর্ব মেদিনীপুর : পাঁচ বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু ২০২১-এর নন্দীগ্রাম নির্বাচনের সেই দৃশ্য যেন এখনও রাজনৈতিক স্মৃতিতে স্পষ্ট। হুইলচেয়ারে বসে ভোটের ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পাঁচ বছর পর সেই পুরনো ঘটনাকেই নতুন করে সামনে এনে প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পায়ে সেদিন আদৌ কোনও ফ্র্যাকচার হয়নি। শুধু দাবি নয়, তাঁর কাছে নাকি রয়েছে সেই সময়ের হাসপাতালের রিপোর্টও। এবার সেই নথি প্রকাশ করার বার্তা দিতেই খোলাখুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।
২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামের বিরুলিয়ায় নির্বাচনী প্রচারের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পায়ে চোট লাগে। সেই সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কয়েকজন তাঁকে ধাক্কা দেওয়ায় গাড়ির দরজা তাঁর পায়ে আঘাত করে। পরে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে এসে SSKM হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের তৎকালীন চিকিৎসকদের প্রাথমিক বিবৃতিতে বাম পায়ের গোড়ালি ও পায়ে গুরুতর আঘাত এবং শরীরের আরও কয়েকটি অংশে চোটের কথা জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি প্লাস্টার করা পায়ে হুইলচেয়ারে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন।
পাঁচ বছর পর গতকাল নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিরুলিয়া বাজারে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর SSKM হাসপাতালে গিয়ে ওই ঘটনার রিপোর্ট পেয়েছেন। তাঁর দাবি, হাসপাতালের নথিতে ফ্র্যাকচার না থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে।
শুভেন্দুর বক্তব্য, গাড়ির দরজা রাস্তার ধারে থাকা একটি লোহার খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এসে মমতার (Mamata Banerjee) পায়ে লাগে এবং তাতে সামান্য চোট হয়েছিল। তাঁর দাবি, সেই চোটকে ফ্র্যাকচার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। শুভেন্দু বলেন, সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট তাঁর কাছে রয়েছে এবং তাঁকে চ্যালেঞ্জ করা হলে তিনি তা প্রকাশ্যে আনবেন। একইসঙ্গে তিনি ওই ঘটনার জন্য নন্দীগ্রাম ও বিরুলিয়া এলাকার মানুষের ‘অপমান’ হয়েছে বলেও দাবি করেন।
তাহলে কি সত্যিই সবটাই ছিল ভোটের কৌশল? নাকি পাঁচ বছর পর রাজনৈতিক মঞ্চে পুরনো ঘটনাকে নতুন করে সামনে আনার পিছনে রয়েছে নন্দীগ্রামের সেই নির্বাচনী স্মৃতিকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে আনার চেষ্টা? শুভেন্দুর দাবি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলেও, সংশ্লিষ্ট নথি সামনে এলেই আসল প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।


