নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ফের সরব ভোটকুশলী তথা জনসুরাজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishore)। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করলে বিজেপি ৭৭টি আসন পেত না, তাদের আসনসংখ্যা ৫০-এর মধ্যেই থাকত।
বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের আবহেই এই মন্তব্য করেছেন প্রশান্ত। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধীদের একাংশ জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে। কমিশনের তরফে অবশ্য বলা হয়েছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তিন কমিশনারের সম্মতি ছিল।
এই পরিস্থিতিতে পিকের (Prashant Kishore) বক্তব্য, ‘শুধু একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না’।তাঁর মতে, জ্ঞানেশ কুমারের জায়গায় অন্য কেউ এলেও যদি একই ব্যবস্থা বজায় থাকে, তাহলে সমস্যার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। নির্বাচন কমিশনার কীভাবে নিয়োগ হবেন, কমিশনের কাজের কাঠামো কী হবে এবং গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কীভাবে আরও স্বচ্ছতা আনা যায়, এসব নিয়ে বৃহত্তর সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত তাঁর।
২০২১-এর বাংলার প্রসঙ্গেও নিজের পুরনো বক্তব্য সামনে আনেন প্রশান্ত (Prashant Kishore)। তখন তিনি তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে যুক্ত ছিলেন। ভোটের ফলাফলে বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ২০০-র বেশি আসন জিতে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করে।
প্রশান্তের দাবি, যেখানে বিজেপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি ছিল, সেখানেই কমিশনের কথিত পক্ষপাতিত্বের প্রভাব পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, “ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার” নির্বাচন হলে বিজেপির আসন ৫০ পেরোত না।একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ভোটের অর্থব্যবস্থা, প্রশাসনের ব্যবহার এবং ভোটার তালিকা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একাধিক ক্ষেত্রেই সমস্যা রয়েছে।
তবে এখানেই থামেননি প্রশান্ত (Prashant Kishore)। নির্বাচন কমিশনের বর্তমান বিতর্ককে তিনি শুধুমাত্র জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে যুক্ত করতে নারাজ। প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের অবসর-পরবর্তী কর্পোরেট পদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাজীব কুমার ২০২২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এবং পরে HDFC Bank-এর পার্ট-টাইম চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। এই নিয়োগ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন প্রশান্ত (Prashant Kishore)।
ফলে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবির পাশাপাশি প্রশান্ত কিশোরের বক্তব্যে সামনে এসেছে আরও বড় প্রশ্ন, সমস্যা কি একজন ব্যক্তিকে ঘিরে, নাকি গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন উঠছে? তাঁর বক্তব্যে আপাতত সেই দ্বিতীয় প্রশ্নই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।


