Aaj India Desk, কলকাতা: পুজোর আর হাতে গোনা কয়েকদিন। তার আগেই ফের জল-যন্ত্রণায় হুগলির খানাকুলের বিস্তীর্ণ এলাকা। একদিকে লাগাতার বৃষ্টি, অন্যদিকে ডিভিসি (DVC) থেকে জল ছাড়া এবং তার সঙ্গে নদীতে জোয়ারের প্রভাব—তিনের জেরে রূপনারায়ণের জল বেড়ে গিয়ে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে একাধিক এলাকা। কোথাও হাঁটু জল, কোথাও আবার কোমরসমান জল। ঘরবাড়ি থেকে দোকানপাট, রাস্তা থেকে গুদাম—জলের হাত থেকে রেহাই পায়নি বহু জায়গা।
শুক্রবার থেকেই খানাকুলের পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। মাড়োখানা, পানশিউলি, হানুয়া, রাজহাটি, গড়ের ঘাট, নন্দনপুর, ঢলডাঙা, সুন্দরপুর-সহ বেশ কয়েকটি এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পানশিউলি বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বাজারের একাধিক দোকান, বাড়ি এবং গুদামে জল ঢুকে যাওয়ায় আপাতত বন্ধ রাখতে হয়েছে বাজারটি।
পানশিউলি বাজারের গুরুত্বও কম নয়। খানাকুলের এই বাজারটি তিন জেলার মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। হাওড়ার ভাটোরা, খানাকুল এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার নদী তীরবর্তী বহু গ্রামের মানুষ দৈনন্দিন কেনাকাটার জন্য এই বাজারের উপর নির্ভর করেন। ফলে বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
অন্যদিকে DVC-র জল ছাড়ার কারণে হাওড়া গ্রামীণের উদয়নারায়ণপুর ব্লকের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া দামোদরেও জলস্তর বেড়েছে। সেচ দফতর সূত্রে খবর, প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। যদিও আধিকারিকদের বক্তব্য, এই মুহূর্তে বিপদের আশঙ্কা নেই। বিশ্ব ব্যাঙ্কের অর্থে দামোদরের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে কংক্রিটের বাঁধ এবং নদী সংস্কারের কাজ হওয়ায় উদয়নারায়ণপুর সংলগ্ন এলাকায় প্রায় এক লক্ষ কিউসেক জল ধারণের সক্ষমতা রয়েছে।
তবে শনিবার পূর্ণিমার কোটালের জেরে আমতা বিধানসভা এলাকার বাকসিহাটে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। আচমকা জল ঢুকে পড়ে বাড়িঘর ও রাস্তায়। নিচু এলাকার রাস্তাগুলি কার্যত বুকজলের নীচে চলে যায়।
এদিকে পুজোর ঠিক আগে ফের জল ঢুকে পড়ায় চিন্তায় খানাকুলের দুর্গাপুজো কমিটিগুলিও। কয়েকদিন ধরে কখনও মুষলধারে, আবার কখনও টানা বৃষ্টির জেরে দ্বারকেশ্বর ও মুণ্ডেশ্বরী-সহ একাধিক নদীর জলস্তর নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ।


