Aaj India Desk, কলকাতা: ভোটের ফল প্রকাশের চার মাস পেরিয়ে গেলেও নির্বাচনী পরাজয় নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান বদলায়নি। ফের প্রকাশ্য সভা থেকে তৃণমূলনেত্রীর দাবি, “আমরা ভোটে হারিনি, জোর করে হারানো হয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ভোটপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও আগেই সামনে এনেছিলেন মমতা।
ফলাফল নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ভোটের হিসাব নিয়ে সরব তৃণমূল নেতৃত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, নির্বাচনে তৃণমূলের প্রকৃত জনসমর্থনের প্রতিফলন ঘটেনি। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। যদিও সরকারি ভাবে ঘোষিত ফলাফলেই নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হয়েছে এবং মমতার এই অভিযোগের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলের কোনও মিল নেই।
ভবানীপুরের ফল নিয়ে আদালতে মামলা
নির্বাচনী ফল নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি আইনি পথেও গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ফলকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে নির্বাচনী মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় হয়েছিল।
মামলায় ভোটার তালিকা, ভোটগ্রহণ এবং গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। আদালতও মামলাটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী নথি ও সামগ্রী সংরক্ষণের বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে। ফলে ভবানীপুরের ফলাফল নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চার মাস পরেও প্রশ্নটা একই
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বেশ কিছুটা সময় পেরিয়ে গেলেও মমতার বক্তব্যে পরাজয় মেনে নেওয়ার কোনও ইঙ্গিত নেই। বরং ফের সভা থেকে একই অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
একদিকে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল, অন্যদিকে সেই ফলকে ঘিরে মমতার আপত্তি দুই অবস্থানের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট। আদালতে চলা মামলার ফল কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তার আগে পর্যন্ত ‘হার নয়, হারানো হয়েছে’ মমতার এই বক্তব্যই ফের রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে।


