Aaj India Desk, হুগলি: বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election) ক্ষমতা হারানোর পর এই প্রথম কলকাতার বাইরে জেলার মাটিতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চলেছেন তৃণমূল (TMC) কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের দীর্ঘদিনের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিষ্ক্রিয় হওয়ার পর শনিবার হুগলির শ্রীরামপুরে তাঁর সভা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।
কলকাতা হাইকোর্টের (kolkata High Court) অনুমতি নিয়ে শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। আর সভার মঞ্চ থেকে শুরু করে শহরের ব্যানার-পোস্টার—সবেতেই এবার চোখে পড়ছে নতুন নাম ও নতুন প্রতীকের ব্যবহার। আসন্ন উপনির্বাচনে মমতা-অনুগামী অংশকে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং ‘ফুটবলার’ প্রতীকে লড়তে হচ্ছে। সেই কারণেই সভার প্রচারেও নতুন প্রতীককে সামনে রাখা হয়েছে।
শ্রীরামপুর শহরে এবার আগের মতো জোড়াফুলের পতাকা দেখা যাচ্ছে না। সভার মূল মঞ্চের ব্যাকড্রপেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছবি রয়েছে স্থানীয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু দেখা যাচ্ছে না দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। ফলে সভার মঞ্চসজ্জা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
এর আগে রেজিনগরে তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘটনায় নতুন প্রতীক সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছিল। শ্রীরামপুরে পুরনো প্রতীক ছাড়া এই আয়োজনও কি নতুন প্রতীককে মানুষের মধ্যে পরিচিত করানোর পরিকল্পনার অংশ? উঠছে সেই প্রশ্ন।
তবে এই সভা আয়োজনের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। প্রথমে ১১ সেপ্টেম্বর মাহেশ থেকে শ্রীরামপুর কোর্ট পর্যন্ত মিছিল করার পরিকল্পনা ছিল। পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। শুনানির পর আদালত মিছিলের অনুমতি না দিলেও ১৫ দিন পর সভা করার অনুমতি দেয়।
শ্রীরামপুরের তুলনামূলক ছোট কোর্ট ময়দানে ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত বেশ কিছু শর্তও দিয়েছে। বিকেল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই সভা শেষ করতে হবে। পাশাপাশি মাঠে সর্বোচ্চ এক হাজার মানুষের উপস্থিতির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সভাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও শুক্রবার থেকেই সরব মমতাপন্থী তৃণমূল নেতৃত্ব। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, দলের কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশকে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এসব করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে রাখা সম্ভব নয়। একই অভিযোগ করেছেন দলের জেলা আহ্বায়ক অসিত মজুমদারও। শুক্রবার রাতে থানায় তলব পাওয়ার পর আইনজীবীর পোশাক পরেই তিনি থানায় হাজির হন।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর কলকাতায় দলের কয়েকটি কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা গেলেও জেলার মাটিতে শ্রীরামপুরের এই সভাই তাঁর প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি। নতুন নাম, নতুন প্রতীক এবং বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ঐতিহাসিক শ্রীরামপুরে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


