Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : বাংলার রাজনীতিতে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচয়ের অন্যতম বড় অধ্যায় ৩৪ বছরের বাম শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সেই মমতাই এবার জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে CPI(M)-এর সঙ্গে সমন্বয়ের পথে। নির্বাচন কমিশন ও SIR ইস্যুতে বিরোধীদের যৌথ অবস্থান তৈরির উদ্যোগে CPI(M)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই দিল্লিতে INDIA জোটের বৈঠক ডাকার উদ্যোগ নিতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে বেবি ও মমতার মধ্যে চিঠি চালাচালিও হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে বামবিরোধী আন্দোলন। রাস্তায় আন্দোলন, অনশন থেকে শুরু করে সংসদীয় রাজনীতি, বামফ্রন্ট সরকারকেই সরানোর লক্ষ্যে দীর্ঘদিন লড়াই করেছে তৃণমূল। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসানের পর সেই রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়। জাতীয় স্তরে INDIA জোটের বৈঠকে একই টেবিলে বসার সুযোগ তৈরি হলেও, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল ও CPI(M)-এর মধ্যে সরাসরি সমন্বয়ের নজির ছিল না।
এবার সেই দূরত্বেই নতুন মাত্রা যোগ করেছে SIR এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্ক। শুক্রবার মমতা ও এম এ বেবির ফোনে বিরোধীদের একজোট হয়ে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী নেতাদের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন বেবি। সেই চিঠির জবাবও দিয়েছেন মমতা। অর্থাৎ, এবার শুধু INDIA জোটের বৈঠকে পাশাপাশি বসা নয়, দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগও তৈরি হয়েছে।
একই সময়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন মমতা। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই দিল্লিতে INDIA জোটের বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে রাহুলকে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। কমিশন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিতর্কের পর বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা যে চলছে, মমতার এই তৎপরতা তারই অংশ বলে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য। এর আগে রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, উদ্ধব ঠাকরে-সহ একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে মমতার ফোনে কথা বলার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে।
বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল ও সিপিএমের দীর্ঘদিনের বিরোধ অটুট থাকলেও, জাতীয় রাজনীতিতে SIR ও নির্বাচন কমিশন ইস্যুতে সমন্বয়ের নতুন ছবি দেখা যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এম এ বেবির সরাসরি যোগাযোগ এবং INDIA জোটের বৈঠকের উদ্যোগ সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।


