Aaj India Desk, নয়া দিল্লি: একদিকে জ্ঞানেশ কুমারকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চেয়ার ছাড়ার আল্টিমেটাম, অন্যদিকে CJP নেতাদের ঘাড়ে ডিপফেক মামলার (Deepfake Case) নোটিস। রাজনীতির ক্যালেন্ডারে যেন সময়টা বেশ ‘ব্যস্ত’! নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘জন্তর মন্তর ২.০’-র ডাক দেওয়ার ঠিক পরেই আদালতের নোটিসে তিন শীর্ষ নেতা। কাকতালীয় নাকি ঘটনাপ্রবাহে অন্য কোনও সমীকরণ তা নিয়েই এখন চলছে জোর চর্চা।
ডিপফেক নিয়ে আদালতে মামলা
২৫ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাই কোর্টে এক মহিলার আবেদনের জরুরি শুনানির জন্য তালিকাভুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়। অভিযোগ, CJP-র কয়েকজন নেতা ওই মহিলার ছবি ব্যবহার করে এআই এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একটি আপত্তিকর ছবি তৈরি ও ছড়িয়েছিলেন। মামলায় (Deepfake Case) CJP-র সৌরভ দাস, অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং রত্না সিংয়ের নাম রয়েছে। অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁর অনুমতি ছাড়াই ছবি ব্যবহার করা হয়েছে এবং ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত সাইবার হামলার অংশ।
অভিযোগটি CJP-র যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত। সেই সময় কথিত মরফ করা ছবিটি প্রদর্শন বা অনলাইনে ছড়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশের সাইবার থানায় FIR-ও দায়ের হয়েছে। তবে ছবিটি কারা তৈরি বা ছড়িয়েছেন এবং অভিযুক্ত নেতাদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।
জ্ঞানেশের ইস্তফা দাবির পরেই অভিযোগ
ঠিক এর আগের দিন, ২৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থান নেয় CJP। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সহ-নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানান। তাঁদের দাবি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হবে। পাশাপাশি ‘জন্তর মন্তর ২.০’-এরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এর ঠিক পরেই দায়ের হয় অভিযোগ।(Deepfake Case)
প্রসঙ্গত, আগের যন্তর মন্তর আন্দোলনের পর ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ CJP-র আন্দোলনকে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিল। এবার একই সংগঠন যখন নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে ফের আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, তখন তাদের বিরুদ্ধে ওঠা ডিপফেক অভিযোগ এবং আদালতের পদক্ষেপও স্বাভাবিকভাবেই নজরে এসেছে। তবে এইভাবে আদৌ সিজেপি আরশোলাদের দমিয়ে রাখা যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান দেশবাসী।


