Aaj India Desk, নয়া দিল্লি: প্রথমে সামনে এসেছিল কমিশনের অন্দরমহলের মতপার্থক্যের খবর। তারপর SIR-এর একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের লিখিত আপত্তির দাবি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের অন্তত ১৪টি সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশি আপত্তি জানিয়েছিলেন। এরপরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। এবার সেই বিতর্ক গড়াল থানার দরজায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)।
ফর্ম-6 নিয়ে প্রথম অভিযোগ
মহুয়ার (Mahua Moitra) অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে নতুন ভোটারদের জন্য ফর্ম-6। তাঁর দাবি, নিয়ম বা বিধি সংশোধন না করেই ফর্মে এমন একটি প্রশ্ন যোগ করা হয়েছে, যেখানে আবেদনকারীকে জানাতে হচ্ছে তাঁর বাবা, মা, দাদু বা ঠাকুমার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল কি না। উল্লেখ্য, কমিশনের কাজে আপত্তি জানানো ওই দুই নির্বাচন কমিশনারও এই পরিবর্তনকে ‘illegal’ ও ‘unauthorised’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
৩৩ লক্ষ ভোটারের মামলা নিয়েও প্রশ্ন
মহুয়ার (Mahua Moitra) দ্বিতীয় অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৩৩ লক্ষ বৈধ ভোটারকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের করা মামলা বা আপিল নিয়ে। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে কমিশনার সান্ধু ও জোশিকে আগে থেকে জানানো হয়নি। তাঁদের লিখিত প্রশ্নেরও উত্তর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে কমিশনের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। SIR নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টের প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কমিশনের সব সিদ্ধান্তই তিন সদস্যের সম্মতিতে নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, বহুসদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে মতপার্থক্য বা ভিন্ন মতামত নথিভুক্ত হওয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক অংশ।
ভোটার তালিকার ‘ব্যাকএন্ড’ নিয়েও অভিযোগ
মহুয়ার তৃতীয় অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁর দাবি, বুথ লেভেল অফিসার বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা নথি যাচাই করে যাঁদের নাম বৈধ বলে মেনে নিয়েছিলেন, তাঁদের কয়েকজনের নাম পরে সিস্টেমের ‘ব্যাকএন্ড’ থেকে কেটে বা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের ২০২৩ সালের আইনি সুরক্ষার প্রসঙ্গও তুলেছেন মহুয়া। তাঁর বক্তব্য, ওই সুরক্ষা নির্বাচন কমিশনের যৌথ ও সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, যদি কোনও সিদ্ধান্ত CEC এককভাবে নিয়ে থাকেন এবং দুই কমিশনার লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়ে থাকেন, তাহলে সেই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে না। মহুয়া পুরো প্রক্রিয়াকে ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করে CEC-এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। মহুয়ার অভিযোগের আইনি পরিণতি কী হবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


