Aaj India Desk, কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Manata Banerjee) প্রতীক হারানোর পর থেকেই বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) মমতার পাশে দাঁড়িয়ে বার্তা দেওয়ার পর নন্দীগ্রামে (Nadigram) কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছিলেন মমতা। এবার কলকাতায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠতেই তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল প্রদেশ কংগ্রেস (Congress)।
ইন্ডিয়া জোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া গান্ধীকে একসঙ্গে দেখা গেলেও বাংলায় তৃণমূল ও প্রদেশ কংগ্রেসের মধ্যে সেভাবে রাজনৈতিক সমঝোতার ছবি এতদিন দেখা যায়নি। বরং দুই দলই আলাদাভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি করেছে এবং নির্বাচনে পৃথকভাবে লড়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুকুন্দপুরে একটি মিছিলকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। পার্টি অফিস দখলের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমেছিলেন তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা। মিছিলের মাঝেই বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বিজেপির পাল্টা দাবি, প্রথমে তাদের এক কর্মীর উপর হামলা করা হয়েছিল।
এই ঘটনায় তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতা-নেত্রী আহত হন। গুরুতর আহত হন প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এছাড়াও উপাসনা চৌধুরী, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ কয়েকজন নেতার আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পরেই তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার (Subhankar Sarkar)। মুকুন্দপুরের ঘটনাকে নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না। তাঁর অভিযোগ, এর মধ্যে ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রকাশ রয়েছে।
শুভঙ্কর সরকারের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে হবে। একইসঙ্গে তিনি বাংলায় গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সমস্ত গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শুভঙ্করের বক্তব্য, এই ঐক্যের নেতৃত্ব দেবেন রাহুল গান্ধী। শুধু বিবৃতি দিয়েই থামছেন না প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। বুধবার মুকুন্দপুরে গিয়ে আক্রান্ত তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তাঁর দেখা করার কথাও রয়েছে।


