Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙড় কলেজে (Bhangar College) সোমবার এসএফআই (SFI), আইএসএফ (ISF)এবং এবিভিপির (ABVP) ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার রেশ কাটেনি এখনও। মঙ্গলবারও এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল ভাঙড় ও বারুইপুরে। এদিন ভাঙড় কলেজের সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দুই এসএফআই নেতাকে বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়।
ধৃত শাহরুখ আখতার আলি মোল্লা এবং আসলাম হাবিবের হয়ে আদালতে সওয়াল করতে হাজির ছিলেন বাম নেতা তথা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় (Sayan Banerjee)। আদালতে শুনানি শেষে দু’জনেই জামিনে মুক্তি পান। তবে, এদিন আদালত চত্বরেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, আইনজীবীর পোশাক পরে আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে কেউ বা কারা ডিম ছোড়ে। ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আদালত চত্বরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সায়নের দাবি, আদালতের ভিতরে থাকা অবস্থাতেই তাঁর দিকে ডিম ছোড়া হয়। পরে আদালতের বাইরে বেরিয়ে আসার পরও স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদ জানান উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবীও।
যদিও আদালত চত্বরে থাকা এবিভিপি সমর্থকদের দাবি, তাঁদের পক্ষ থেকে কোনও ডিম ছোড়া হয়নি। তবে আদালতের বাইরে তাঁদের স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে দু’দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। প্রথমে এসএফআই এবং এবিভিপি সমর্থকদের মধ্যে চলে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান। দুই পক্ষই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দু’পক্ষকে আলাদা করে দেয়। পরে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ সামনে আসে। সেই সময় আদালত চত্বরে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন।
ঘটনাস্থলে পৌঁছন বারুইপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস। তিনি জানান, দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সামান্য বচসা হয়েছিল এবং পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আদালত কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আদালত চত্বরও ফাঁকা করে দেওয়া হয়।
ডিম ছোড়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশের বক্তব্য, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা নিজেরা এমন কোনও ঘটনা দেখেনি। মাটিতে পড়ে থাকা ডিমও চোখে পড়েনি বলে জানান পুলিশ আধিকারিক। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও লিখিত অভিযোগ করেননি বলেও জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ করতে চাইলে তিনি এসিজেএমের কাছে তা জানাতে পারেন বলেও জানান বারুইপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।


