বর্ধমান: বাইরে থেকে দেখলে সব ঠিকঠাক। বিশাল কলেজ ভবন, মেডিক্যাল পড়াশোনার ব্যবস্থা, পড়ুয়াদের আনাগোনা, সবই ছিল (Medical College)। কিন্তু পর্দার আড়ালে নাকি ছিল অন্য ছবি। অভিযোগ, কলেজের নিজস্ব বিল্ডিং থাকলেও নিজস্ব হাসপাতাল ছিল না। সেই হাসপাতাল চলত ভাড়ার চুক্তিতে। আর সেই তথ্য সামনে আসতেই বর্ধমানের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্বাস্থ্য মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কীভাবে একটি মেডিক্যাল কলেজ নিজস্ব হাসপাতাল ছাড়াই চলছিল? কীভাবে পড়ুয়া ভর্তি হচ্ছিল? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে বিভিন্ন মহলে।
সোমবার দুর্গাপুরে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, তিনি নিজে কলেজ ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল পরিদর্শন করেছিলেন। সেখানেই জানা যায়, যে হাসপাতালকে কলেজের অংশ হিসেবে দেখানো হচ্ছিল, সেটি আসলে ভাড়ায় পরিচালিত হত (Medical College)। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের সঙ্গে চুক্তিও আর বহাল নেই। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ে কড়া অবস্থান নেয় স্বাস্থ্য দফতর।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর নজরে আসে আরও কিছু অসঙ্গতি। অভিযোগ, ওই বেসরকারি হাসপাতালকে কলেজের নিজস্ব হাসপাতাল হিসেবে দেখিয়েই পড়ুয়া ভর্তি করা হচ্ছিল (Medical College)। বিষয়টি সামনে আসতেই কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়। এরপর দ্রুত পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়।
সূত্রের দাবি, হাসপাতালের কর্ণধারের কাছেও বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয়। তিনি পদত্যাগ করেন। তারপরই কলেজের ( Medical College) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত বন্ধের নির্দেশ জারি করা হয়।
এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, অতীতে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নজরদারির ঘাটতির কারণেই এ ধরনের অনিয়ম বেড়ে উঠেছিল। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের তরফে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
অন্যদিকে, রাজ্যে ভুয়ো ডাক্তার ও জাল ডিগ্রি নিয়ে চলা বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন সময়ে জাল শংসাপত্রধারী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এবং একাধিক মামলার তদন্ত চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে বর্ধমানের এই ঘটনা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিল। এই কলেজ-কাণ্ডে আর কী কী তথ্য সামনে আসে, সেটাই দেখার।


