Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের আগে প্রতীক নিয়ে ফের আইনি টানাপোড়েন। তৃনমূলের জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে টানাটানির মাঝেই ঋতব্রত শিবিরকে দেওয়া হয়েছিল খাম প্রতীকটি। এরপরেই শুরু হয় সংঘাত। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এবার আদালতের দ্বারস্থ হলেন ভাঙড়ের ISF বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddiqui)।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের নতুন দল ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’কে ‘খাম’ প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রথমে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছিল ISF। কমিশন সেই আপত্তি খারিজ করে ‘খাম’ প্রতীক ঋতব্রত শিবিরের জন্য বহাল রাখে। এরপর ISF-কে ‘আলমারি’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন নওশাদ (Naushad Siddiqui)। মামলাটি চলতি সপ্তাহে শুনানিতে উঠতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
কেন ‘খাম’ প্রতীকে আপত্তি ISF-এর?
ISF-এর দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিয়ম মেনে ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহারের জন্য তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছিল। মার্চ মাসে ওই প্রতীক নিয়ে কমিশনের কাছে নথিভুক্তিও করা হয়েছিল বলে দাবি দলের। এরপর নতুন করে তৈরি হওয়া ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’-কে একই প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তোলে ISF।
নওশাদের (Naushad Siddiqui) প্রশ্ন, আগে অস্তিত্ব না থাকা একটি দল কীভাবে ‘স্বীকৃত রাজনৈতিক দল’-এর মর্যাদা পেল এবং সেই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে কীভাবে প্রতীক বরাদ্দ হল? তাঁর বক্তব্য, প্রতীক বরাদ্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পিছনে থাকা নিয়ম ও প্রক্রিয়া স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
কমিশনের পর এবার আদালতে
‘খাম’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন নওশাদ। কিন্তু কমিশন ISF-এর দাবি খারিজ করে জানায়, ‘খাম’ প্রতীক ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেসের কাছেই থাকবে। পরে ISF-এর জন্য ‘আলমারি’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। কমিশনের সেই সিদ্ধান্তের পরই আইনি পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ISF। সোমবার হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে দলটি। ফলে এবার প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট নিয়ম এবং সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া—সবই আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে।
নওশাদের বক্তব্য কী ?
নওশাদের বক্তব্য, প্রতীক বরাদ্দের মতো বিষয়ে নিয়ম এবং প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও অস্পষ্টতা থাকা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “এই খেলা খেলা উচিত নয়।” নওশাদের দাবি, নির্বাচনে রাজনৈতিক বিকল্প যত বেশি থাকবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা যত বেশি হবে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগও তত বাড়বে।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ঘিরে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মূল তৃণমূলের নাম ও ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পর দুই শিবিরকে আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পেয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক। এবার সেই ‘খাম’ প্রতীক নিয়েই ISF-এর আদালতে যাওয়ায় উপনির্বাচনের আগে শুরু হল আরও একটি আইনি লড়াই।


