মুর্শিদাবাদ: ভাইরাল অডিও বিতর্কে পুলিশের তলব, তার আগেই সকাল ১১টার নির্ধারিত সময়ের আগে বহরমপুর থানায় হাজির হলেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-র প্রধান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। থানায় যাওয়ার আগে তিনি শুধু তদন্ত নিয়েই নয়, আসন্ন রেজিনগর উপনির্বাচনে নিজের প্রাণহানির আশঙ্কার কথাও প্রকাশ্যে তুলে ধরলেন।
সাম্প্রদায়িক হিংসা উস্কে দেওয়ার ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত একটি ভাইরাল অডিও ক্লিপের তদন্তে হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে বহরমপুর পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ওই অডিওতে সিসিটিভি বন্ধ রাখা, গ্যাং তৈরি করে বিভিন্ন এলাকায় মুভমেন্ট করানো এবং বাবরি মসজিদে বিজেপির পতাকা লাগানোর মতো পরিকল্পনা নিয়ে কথোপকথন শোনা যায়। এই মামলায় ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
যদিও হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই এই পদক্ষেপ। তাঁর দাবি, ফোনে কথোপকথন হলেও ভাইরাল অডিওর ব্যাখ্যা তিনি আগেই দিয়েছেন।
“আমার শেষ দিন হতে পারে ৬ অক্টোবর”
থানায় যাওয়ার আগে সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুনের (Humayun Kabir) বিস্ফোরক দাবি, রেজিনগর উপনির্বাচনের দিন তাঁর উপর হামলা হতে পারে। “আমার শেষ দিন হতে পারে ৬ অক্টোবর। কিন্তু একটা মুসলমান বুথেও ভোট লুঠ হতে দেব না। আমার উপর গুলি চললে চলবে, আমি নিহত হব, তবুও রুখব।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের দিন পুলিশ ও দুষ্কৃতীরা ভোটারদের বাধা দিতে পারে। এমনকি কোচবিহারের ঘটনার উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি চালানোর প্রসঙ্গও টানেন। তবে এই অভিযোগ ও আশঙ্কার স্বাধীন সত্যতা এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রচার নয়, ভরসা ফেসবুক
রেজিনগর উপনির্বাচনে AJUP প্রার্থী তাঁর ছেলে। কিন্তু হুমায়ুন (Humayun Kabir) জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি প্রচারে নামবেন না। তাঁর অভিযোগ, যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। “পুলিশ দলদাসের ভূমিকা পালন করছে। তাই এবার প্রচার হবে আমার ফেসবুক পেজ থেকেই।” একই সঙ্গে তিনি রক্তক্ষয়ের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, ভোটের দিন সংঘর্ষ হলে উভয় পক্ষের কর্মীদের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
তদন্ত বনাম রাজনৈতিক তরজা
এখন একদিকে পুলিশের অডিও তদন্ত, অন্যদিকে উপনির্বাচনের উত্তপ্ত আবহ! দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে হুমায়ুন কবীরের এই প্রাণহানির আশঙ্কার মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তদন্তে কী উঠে আসে এবং নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


