Aaj lndia Desk, কলকাতা: একদিন আগেই সিআইডির নথিতে উঠে এসেছিল একটি নাম। তার ২৪ ঘণ্টা পরেই সেই ঘটনাকে ঘিরে সামনে এল সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি। শালবনি জমি-কাণ্ডে ধৃত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)র আপ্তসহায়ক সুমিত রায়(Sumit Ray)-র বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। সিআইডি যে দাবি আদালতে জানিয়েছে, তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য তার সঙ্গে একেবারেই মেলেনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, জেরায় ঠিক কী বলেছিলেন সুমিত?
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি খাসজমি ভুয়ো নথির মাধ্যমে দখল ও বিক্রির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। তদন্তে সিআইডি সুমিত রায়, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা (Sujay Hazra)-সহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হয়। সেখানেই আর্থিক লেনদেন নিয়ে তদন্তকারীদের দাবি প্রকাশ্যে আসে।
সিআইডির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুমিত জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নির্দেশে টাকা দলীয় অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘টি. ঘোষ’ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা পেয়েছিলেন সুমিত। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ওই ব্যক্তিকে সাংসদের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সিআইডি।
কিন্তু রবিবারই সামনে আসে অন্য বক্তব্য। সুমিতের সঙ্গে দেখা করার পর তাঁর আইনজীবী অগ্নিশ বসু (Agnish Basu) দাবি করেন, অভিষেকের নাম সুমিত বলেননি। বরং দলের আর্থিক বিষয় দেখার ক্ষেত্রে তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের (Arup Biswas) নির্দেশের কথা জানিয়েছেন তিনি। আইনজীবীর দাবি, ২০২০ সালের পর অরূপ বিশ্বাস দলের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন এবং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ীই টাকা লেনদেন করতেন সুমিত।
এর আগে সিআইডির চার্জশিটেও এই মামলার আর্থিক দিকটি উল্লেখ করা হয়েছিল। তৃণমূলের যুব সংগঠনের অ্যাকাউন্টে সুমিতের মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি টাকা জমা পড়েছিল বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে। ওই অর্থের উৎস এবং লেনদেনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে সিআইডি।
এদিকে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, সুমিত অভিষেকের অফিসে কাজ করতেন। এত বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে কার নির্দেশ ছিল, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এখন নজর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপে। সিআইডির দাবি এবং সুমিতের আইনজীবীর বক্তব্যের এই পার্থক্যের আসল কারণ কী শালবনি মামলায় সেই উত্তরই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


