Aaj lndia Desk, কলকাতা: একদিকে নন্দীগ্রামে প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার, অন্যদিকে রেজিনগরেও প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা পরপর ঘটনায় মমতা তৃণমূলকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল নতুন জল্পনা। শনিবার আচমকাই ভোটের ময়দান থেকে সরে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী (Rabiul Alam Chowdhury)। ফলে প্রশ্ন উঠেছিল, নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও কি একই ছবি দেখা যাবে? কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনায় জল ঢেলে ভোটে থাকার সিদ্ধান্ত নেন রবিউল।
রবিবার প্রচারে বেরিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত বদলের কারণও সামনে আনেন তিনি। রবিউলের দাবি, প্রথমে নতুন প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়াই করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, নতুন প্রতীক ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে সময় কম, তার উপর প্রশাসন ও বিজেপির চাপের আশঙ্কাও ছিল। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভোটে না দাঁড়ানোর পক্ষেই মত তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু সেই অবস্থান বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রবিউলের দাবি, রাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তাঁকে ফোন করেন। ভোটের ময়দান ছেড়ে না যাওয়ার জন্য তাঁকে অনুরোধ করেন তৃণমূল নেত্রী। এরপর পরদিন সকালে কর্মীদের সঙ্গে ফের আলোচনা হয়। কর্মীরাও তাঁকে সরে না যাওয়ার অনুরোধ করেন।
রবিউলের কথায়, কর্মীরা তাঁকে বোঝান, দলের কঠিন সময়ে তিনি যদি সরে যান, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানসিকভাবে আঘাত পেতে পারেন। এরপরই নাকি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোন আসে।
রবিউলের দাবি, মমতার পাশাপাশি দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)-ও তাঁকে ফোন করেন। নতুন প্রতীকে দলের প্রথম ভোটে প্রার্থী না থাকলে তার রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে এই বিষয়টি তাঁকে বোঝানো হয় বলে দাবি রবিউলের।
শেষ পর্যন্ত সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত বদল করেন তিনি। রবিউলের বক্তব্য, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল করেন। তাই ফলাফল যাই হোক, ভোটের লড়াই থেকে সরে না গিয়ে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে নন্দীগ্রাম থেকে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে (Sanchita Pradhan Dey) মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর রেজিনগর নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। রবিউলের সিদ্ধান্ত বদলের ফলে আপাতত সেই সংশয় কেটেছে।
তবে তাঁর নিজের বক্তব্যেই উঠে এসেছে নতুন প্রতীক, প্রশাসনিক চাপ এবং বিজেপির চাপ নিয়ে উদ্বেগের কথা। ফলে রেজিনগরের উপনির্বাচনে মমতা তৃণমূল কতটা সংগঠিতভাবে লড়াই করতে পারে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। আগামী ৬ অক্টোবরের ভোটে সেই লড়াই কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।


