Aaj India Desk, কলকাতা:নন্দীগ্রামের ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই ঘন হচ্ছে অনিশ্চয়তা। নির্বাচনের ময়দানে থাকা কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান (Milan Pradhan)-এর সামনে এখন বড় বাধা আইনি জটিলতা। আদালত থেকে আপাতত স্বস্তি পেলেন না তিনি। জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ায় ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতেই থাকতে হবে তাঁকে। আর নন্দীগ্রামে ভোট হবে ৬ অক্টোবর। ফলে ভোটের ঠিক আগের কয়েকটি দিন প্রার্থীর জন্য কেটে যাবে কারাগারেই।
ঘটনার সূত্রপাত একটি পুরনো মামলাকে কেন্দ্র করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ের একটি খুনের মামলায় মিলনের নাম জড়ায়। নন্দীগ্রাম এবং খেজুরি থানা এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। এর মধ্যে খুন এবং অস্ত্র আইনের ধারাও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা সেই মামলার সূত্রেই শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর শনিবার আদালতে হাজির করা হয় কংগ্রেস প্রার্থীকে। তাঁর আইনজীবীরা জামিনের আবেদন জানালেও আদালত তা গ্রহণ করেনি। বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত। ফলে নির্বাচনের আগে প্রচারে নামার সুযোগ কার্যত সংকুচিত হয়ে গেল।
তবে এখানেই আইনি প্রক্রিয়া থেমে থাকছে না। আগামী সোমবার আরও একটি পুরনো মামলায় মিলনকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। সেটি খেজুরি থানার মামলা বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অর্থাৎ আগামী কয়েকদিনও তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
মিলনের গ্রেফতারিকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা করেন। এরপরই পুরনো মামলায় মিলনের গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্ন তোলে কংগ্রেস।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, মিলনকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁকে চোখ বেঁধে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে মিলনের গ্রেফতারির পিছনে রাজনৈতিক যোগসাজশের অভিযোগও তুলেছে কংগ্রেস। যদিও পুলিশের বক্তব্য, পুরনো মামলায় থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই আইন মেনে পদক্ষেপ করা হয়েছে।
প্রার্থী জেলে থাকলেও নির্বাচনী লড়াই থেকে সরছে না কংগ্রেস। দলের কর্মী-সমর্থকরাই এলাকায় প্রচারের দায়িত্ব সামলাবেন বলে জানানো হয়েছে। এখন প্রশ্ন, ৩ অক্টোবরের আগে মিলন জামিন পান কি না। কারণ সেক্ষেত্রে ভোটের আগে প্রচারের জন্য হাতে থাকবে খুবই অল্প সময়। আর জামিন না হলে জেল থেকেই নন্দীগ্রামের নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যেতে হবে তাঁকে।


