Aaj India Desk, কলকাতা : নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আসন্ন উপনির্বাচনের আগে তীব্র সঙ্কটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃনমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর বিবাদের জেরে আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং সংরক্ষিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্তর্বর্তী নির্দেশে দুই গোষ্ঠীকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই এবার গর্জে উঠলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)।
সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্টার মাধ্যমে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) অভিযোগ করেছেন, “এটি একটি চেনা ছক! শিবসেনা, এনসিপির পর এবার তৃণমূলের ক্ষেত্রেও একই ধারা দেখা যাচ্ছে।” তাঁর বক্তব্য, প্রথমে দল ভাগ করে তারপরে নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করাই বিজেপির উদ্দেশ্য ছিল। মমতার পাশে থাকার বার্তা দিয়ে রাহুল জানিয়েছেন, “ভোট চুরি, সরকার চুরির পর এবার দল চুরি হলো।” এগুলি তাঁর মতে গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের প্রতীক। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হওয়া উচিত জনগণের রায় রক্ষা করা, কিন্তু কমিশন বিজেপির সঙ্গে মিলে বিরোধী দলগুলিকে দুর্বল করছে। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘যোগসাজশ’ করার অভিযোগ করেছেন তিনি।
পাশাপাশি রাহুল (Rahul Gandhi) তাঁর বক্তব্যে শিবসেনা এবং এনসিপির দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের সঙ্গে তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনেছেন। তাঁর মূল বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই সিদ্ধান্ত সরাসরি ভোটারদের সামনে দলীয় পরিচয়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে কমিশনের তরফে ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে, দুই পক্ষের দাবির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় উপনির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দুই গোষ্ঠীকে সমান অবস্থানে রাখার জন্যই তারা দলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করেছে। ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুই পক্ষের প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর কমিশনের বরাদ্দ করা নাম ও প্রতীকেই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের নির্বাচনে লড়তে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। দলের আসল পরিচয়, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের ভবিষ্যৎ কী হয় এবার সেটাই দেখার।


