Aaj India Desk,কলকাতা: সময় গড়িয়েছে অনেকটা। ২০২৪ সালের সেই ভয়াবহ রাতের পর দু’বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক পড়ুয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এখনও একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। মঙ্গলবার শিয়ালদহ আদালতে মামলার ১৩তম স্ট্যাটাস রিপোর্ট পেশ করল কেন্দ্রীয় এজেন্সির নতুন তদন্তকারী দল। রিপোর্ট জমা পড়তেই ফের সামনে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক।
শুধু নথি নয়, শ্মশানেও পৌঁছয় তদন্তকারী দল
আদালতে সিবিআইয়ের আইনজীবী জানান, তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই মামলার সঙ্গে যুক্ত একাধিক নথি পরীক্ষা করেছেন। পাশাপাশি ফরেন্সিক এবং মেডিক্যাল রিপোর্টও খতিয়ে দেখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।
তবে তদন্তের পরিধি এখানেই থামেনি। নির্যাতিতা চিকিৎসক পড়ুয়ার শেষকৃত্য যে শ্মশানে হয়েছিল, সেখানেও গিয়েছেন তদন্তকারীরা। সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই অনুসন্ধান থেকে পাওয়া তথ্য-সহ তদন্তের সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথা এদিনের রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সিবিআইয়ের দাবি, নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে যে প্রশ্ন ও বিষয়গুলি সামনে আনা হয়েছে, সেগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও তদন্তের কয়েকটি অংশ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
‘যাঁদের অভিযুক্ত বলছি, তাঁরা তদন্তের বাইরে কেন?’
এদিন আদালতে ফের সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিয়ে বহু তথ্য ইতিমধ্যেই সামনে রয়েছে। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে যাঁদের মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তাঁরা কীভাবে তদন্তের বাইরে রয়েছেন, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
আইনজীবীর আরও বক্তব্য, দু’বছর ধরে তদন্ত চলার কথা বলা হলেও এখনও বেশ কিছু বিষয় অমীমাংসিত। কেস ডায়েরিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির কোনও উল্লেখ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা দরকার। যদিও সিবিআই আদালতকে জানিয়েছে, মামলার কেস ডায়েরি ইতিমধ্যেই জমা দেওয়া হয়েছে।
‘আমরা খুশি নই, তবে তদন্ত চলছে’, বলছে পরিবার
এদিন নির্যাতিতার বাবা জানান, নতুন তদন্তকারী দলের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। তদন্তকারীরা নিজেদের মতো করে কাজ করছেন। তবে তাতে পরিবার পুরোপুরি সন্তুষ্ট, এমনটা নয়।
তিনি বলেন, এই মামলার দিকে শুধু রাজ্য বা দেশের মানুষই নয়, গোটা বিশ্বের মানুষ তাকিয়ে রয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট রাতে আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক পড়ুয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটে। পরদিন হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার ভয়াবহতা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। পরে মামলার তদন্তভার নেয় সিবিআই।
এখনও তদন্তের কিছু দিক বাকি থাকার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। ফলে ১৩তম স্ট্যাটাস রিপোর্টে ঠিক কী তথ্য রয়েছে এবং আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ। মামলার পরবর্তী শুনানি ২০ নভেম্বর।


