Aaj India Desk, কলকাতা: শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় তদন্তের গতিপথে এবার সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারি জমিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে দেখিয়ে ভুয়ো কাগজপত্রের মাধ্যমে তার মালিকানা বদল এবং পরে সেই জমি বিক্রির একটি পরিকল্পিত কারবার চলছিল বলে আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে দাবি করেছে সিআইডি (CID)। তদন্তকারীদের বক্তব্য, এই গোটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সুজয় হাজরা (Sujit Hazra)এবং সুমিত রায়(Sumit Roy)-র কথিত যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুর আদালতে চার্জশিট জমা দেয় তদন্তকারী সংস্থা। সেখানে জমির নথিতে থাকা একাধিক ব্যক্তির পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট ঠিকানাগুলিতে গিয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন। কিন্তু নথিতে উল্লেখ থাকা নামের কোনও ব্যক্তিকে সেখানে পাওয়া যায়নি বলে চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে। এর থেকেই ওই নামগুলি ভুয়োভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
মামলার তদন্তে সুজয় হাজরার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী পাওয়ার কথা জানিয়েছে সিআইডি। চার্জশিট অনুযায়ী, বাড়ি থেকে প্রচুর স্ট্যাম্প পেপার উদ্ধার হয়। এর মধ্যে ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার দফতরের এক আধিকারিকের নামে ব্যবহৃত একটি রাবার স্ট্যাম্পও ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। পরীক্ষা করে সেটি আসল নয় বলেই জানা যায়। পাশাপাশি কয়েকটি পাসবুক এবং চেকবুক উদ্ধারের কথাও উল্লেখ রয়েছে তদন্তের নথিতে।
কয়েকশো একর জমি ঘিরে তদন্ত
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে কয়েকশো একর সরকারি জমির চরিত্র পরিবর্তন করে ভুয়ো দলিলের মাধ্যমে হাতবদলের অভিযোগ থেকেই এই মামলার সূত্রপাত। তদন্তে নেমে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতার করে সিআইডি। পরে ১০ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে।
মামলার নথিতে মোট ২০ জন সাক্ষীর উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই প্রাক্তন PSO। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান, কয়েকজন তৃণমূল নেতা এবং সুজয় হাজরার গাড়ির চালকের বক্তব্যও তদন্তকারীরা রেকর্ড করেছেন।
সরকারি জমি কীভাবে নথির কারসাজির মাধ্যমে অন্যের নামে দেখানো হল, কারা সেই প্রক্রিয়ায় যুক্ত এবং সুজয় হাজরা ও সুমিত রায়ের ভূমিকা ঠিক কী এখন সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সিআইডি। চার্জশিটের এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর মামলাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


