Aaj India Desk, কলকাতা: ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের রাজনৈতিক ময়দান। আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। আর তার আগেই দুই আসনে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বামফ্রন্ট। নন্দীগ্রামে সিপিআইয়ের শান্তিগোপাল গিরি (Shanti Gopal Giri) এবং রেজিনগরে সিপিএমের আইনজীবী সৈয়দ আসাদ আলিকে প্রার্থী করা হয়েছে। ফলে প্রার্থী ঘোষণা পর্বে বামেদের অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে গেল।
নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। ১৭ সেপ্টেম্বর হবে মনোনয়নপত্র পরীক্ষা। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ সেপ্টেম্বর। এরপর ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর হবে ভোটগণনা। দুই বিধায়কের ইস্তফার কারণেই এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।
নন্দীগ্রামে ফের সিপিআই, সামনে শান্তিগোপাল
নন্দীগ্রামের ভোট মানেই রাজ্য রাজনীতিতে বাড়তি নজর। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-কে হারিয়ে বড় চমক দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম থেকে জয় পান তিনি। একইসঙ্গে ভবানীপুর থেকেও জেতার পর দুই আসনের মধ্যে ভবানীপুর ধরে রেখে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন শুভেন্দু। ফলে নিয়ম অনুযায়ী এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে।
এবার নন্দীগ্রাম আসনটি শরিক সিপিআইকে ছেড়েছে সিপিএম। সেই সমঝোতা অনুযায়ী শান্তিগোপাল গিরি কাস্তে-ধানের শিষ প্রতীকে লড়বেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটেও নন্দীগ্রামে বামেদের প্রার্থী ছিলেন তিনি। তার আগে প্রাথমিকভাবে সিপিআইয়ের তরফে তাঁর নাম সামনে এসেছিল এবং প্রচারও শুরু হয়েছিল। পরে আসনটি আইএসএফকে ছেড়ে দেওয়ায় দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এবার উপনির্বাচনে সেই পুরনো দাবিকেই গুরুত্ব দিল বামফ্রন্ট।
রেজিনগরে সিপিএমের প্রার্থী, শরিকি সমীকরণে নজর
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রেও প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। এই আসনে সিপিএমের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আইনজীবী সৈয়দ আসাদ আলি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর হুমায়ুন কবীরের ইস্তফার জেরেই আসনটি শূন্য হয় এবং উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তবে রেজিনগরে প্রার্থী বাছাই ঘিরে বামেদের অন্দরেও কিছুটা টানাপোড়েনের ইঙ্গিত রয়েছে। শরিক দল আরএসপি এই কেন্দ্রে প্রার্থী দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল বলে জানা যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিপিএম নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। ফলে আরএসপি শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তারা পাল্টা প্রার্থী দিলে বামেদের ভোট সমীকরণে তার প্রভাব পড়তে পারে।
কংগ্রেসের প্রার্থীও ঘোষণা, নন্দীগ্রামে নতুন সমীকরণ
বামেদের পাশাপাশি দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী দিয়েছে কংগ্রেস। নন্দীগ্রামে হাত শিবিরের প্রার্থী মিলন প্রধান। রেজিনগরে কংগ্রেসের হয়ে লড়বেন মহম্মদ আব্দুল্লাহি কাফি। অর্থাৎ দুই কেন্দ্রেই আগের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় প্রার্থী বদল করেছে কংগ্রেস। ২০২৬ সালে নন্দীগ্রামে জারিয়াতুল হোসেন এবং রেজিনগরে জিল্লু সেখ কংগ্রেসের হয়ে লড়েছিলেন।
অন্যদিকে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের প্রার্থী হলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী আলাদা প্রার্থী দেবে না এমন মন্তব্য করেছেন ঋতপন্থী তৃণমূল নেতা মদন মিত্র। বিজেপি-বিরোধী ভোট যাতে ভাগ না হয়, সেই বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
সব মিলিয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর্ব শেষ হওয়ার আগেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ভোটের অঙ্ক জমে উঠেছে। প্রার্থী তালিকা আরও স্পষ্ট হলে দুই কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।


